এ বছর ত্রয়োদশী তিথি পড়ছে ১৬ মার্চ অর্থাৎ আজ সোমবার সকাল ৭ঃ৫৯ মিনিট থেকে ১৭ মার্চ মঙ্গলবার সকাল ৮ঃ০৯ মিনিট পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যেই মতুয়া ভক্তরা কামনা সাগরে পুণ্যস্নান করবেন। এছাড়াও বিশেষ মাহেন্দ্র যোগ ১৬ মার্চ সোমবার দুপুর ৩ঃ২২ মিনিট থেকে বিকেল ৫ঃ০১ মিনিট পর্যন্ত। অন্যদিকে, অমৃত যোগ ১৭ মার্চ মঙ্গলবার সকাল ৭ঃ৫৪ মিনিট থেকে সকাল ৮ঃ০৯ মিনিট পর্যন্ত। এই সময়কে ‘বিশেষ’ শুভক্ষণ হিসেবে ধরা হয়। এই সময়ে স্নান করলে বিশেষ পুণ্যলাভ হবে বলে মনে করেন ভক্তরা।
advertisement
আরও পড়ুনঃ যদি চোখে ‘এই’ লক্ষণ দেখেন, এটা কিন্তু লিভার ক্যানসারও হতে পারে! আজই চিকিৎসকের কাছে যান
প্রতি বছর হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মতিথিকে কেন্দ্র করে ঠাকুরনগরে বসে বিশাল মতুয়া মেলা। মধুকৃষ্ণ ত্রয়োদশী তিথিতে তাঁর আবির্ভাব দিবস পালন করা হয়। ১৮১২ সালে অধুনা গোপালগঞ্জ জেলার সাফলাডাঙা গ্রামে এক নমঃশূদ্র কৃষক পরিবারে জন্ম। পরে তাঁর আদর্শ ও দর্শনের ভিত্তিতেই গড়ে ওঠে মতুয়া ধর্ম। মতুয়া ধর্মে ‘হরি বোল’ ধ্বনিকে শক্তির উৎস হিসেবে মানা হয়। ডঙ্কা, কাঁসর বাজিয়ে নাচ ও ভক্তিগানের মাধ্যমে মতুয়া সম্প্রদায় নিজেদের মধ্যে ঐক্য ও শক্তি সঞ্চয়ের বার্তা বহন করে।
সমাজে বর্ণবৈষম্য ও জমিদার প্রথার বিরুদ্ধে সংগ্রামের বার্তাও দিয়েছিলেন হরিচাঁদ ঠাকুর। পরবর্তীতে শিক্ষা বিস্তার ও সমাজ সংস্কারের দায়িত্ব তিনি তুলে দেন তাঁর পুত্র গুরুচাঁদ ঠাকুরের হাতে। উল্লেখ্য, ১৯৮৫ সালের পর থেকে ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়ি এই দিনটিকে বারুণী স্নান নয়, বরং ‘মতুয়া স্নান’ ও ‘মতুয়া ধর্ম মহা মেলা’ হিসেবেই পালন করে আসছে। যদিও দীর্ঘদিন ধরে লোকমুখে এই দিনটি বারুণী স্নান হিসেবেই পরিচিত। এবারও আজ সেই উপলক্ষ্যে কয়েক লক্ষ ভক্তের সমাগম হবে বলে আশা। ২১৫ তম বছরে পা দেওয়া এই ধর্ম মেলাকে ঘিরে তাই এখন ভক্ত সমাগমে ভরে উঠেছে মতুয়াগড়। লক্ষাধিক ভক্তের ভিড় সামাল দিতে প্রশাসনের তরফেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে।






