পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আহত লতিকা শিকদারের বাড়ি বনগাঁ-র চৈতিপাড়া এলাকায়। প্রতিদিনের মতো এদিন সকালেও তিনি কাজে যাচ্ছিলেন। সেই সময় আচমকাই ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁর উপর চড়াও হয় স্বামী শুকদেব শিকদার। অভিযোগ, কোনও কথা কাটাকাটির জেরেই এই হামলা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রকাশ্য রাস্তায় স্ত্রীর উপর এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করে শুকদেব।
আরও পড়ুন: SIR জটিলতা অব্যাহত, পিছিয়ে গেল রাজ্য-কমিশন জরুরি বৈঠক, ভোট ঘোষণায় কি আরও দেরি?
advertisement
লতিকার একটি হাত প্রায় শরীর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। একটি আঙুল কেটে যায়, এমনকী কানের অংশও কেটে পড়ে যায় বলে দাবি স্থানীয়দের। রক্তাক্ত অবস্থায় দীর্ঘক্ষণ ব্রিজের উপর পড়ে ছিলেন তিনি। তাঁকে উদ্ধার করতে গেলে অভিযুক্ত পথচারীদের দিকেও অস্ত্র নিয়ে তেড়ে আসে বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় গোপালনগর থানা-র পুলিশ। গুরুতর জখম অবস্থায় লতিকাকে উদ্ধার করে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে তাঁকে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই অভিযুক্তের মা দুলালি শিকদারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মূল অভিযুক্ত শুকদেব শিকদার পলাতক। তার খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পারিবারিক অশান্তি নাকি অন্য কোনও কারণ এই নৃশংস হামলার নেপথ্যে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১১ বছর আগে লতিকা ও শুকদেবের বিয়ে হয়। বর্তমানে তাঁদের ১০ বছরের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
আরও পড়ুন: যুবসাথী প্রকল্পে নাম অ্যাপ্রুভ হয়েছে তো? কীভাবে জানবেন? রইল মোবাইলে দেখার সহজ পদ্ধতি
ঘটনার পর লতিকার পরিবারের পক্ষ থেকে গোপালনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। চন্দ্রকান্ত সরকার আহত মহিলার মামা জানান, দোষীর কঠোর শাস্তি চাই। পরিকল্পনা করেই এই হামলা করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী নারায়ণ বিশ্বাস জানান, ব্রিজে তখন লোকের আনাগোনা, হঠাৎ চিৎকার শুনে দেখি এমন কাণ্ড। বাঁচাতে যাওয়ার জন্য, এগোতেই আমাদের দিকে তেড়ে আসে। এত নৃশংস ঘটনা আগে দেখিনি। এমন ঘটনায় রীতিমতো শিউরে উঠছেন এলাকার মানুষজন।






