বর্তমানে স্টেশনে একদিক দিয়েই এন্ট্রি ও এক্সিট ব্যবস্থা চালু রয়েছে। নির্দিষ্ট এক্সিট গেট দিয়ে বেরোলেই সামনে রয়েছে পার্কিং জোন। পাহাড়মুখী গাড়ি থেকে শুরু করে শিলিগুড়ি শহরের বিভিন্ন প্রান্তে যাওয়ার যানবাহন—সবই মিলছে সেখানেই। তবে স্টেশন ভবন থেকে পার্কিং পর্যন্ত পৌঁছাতে যাত্রীদের বেশ কিছুটা পথ হেঁটে যেতে হচ্ছে। ভারী লাগেজ, বয়স্ক সদস্য বা ছোট শিশু থাকলে সময় হাতে নিয়ে বেরোনোর পরামর্শ দিচ্ছেন অনেকে।
advertisement
অ্যাপ ক্যাব বুক করলেও গাড়ি নির্দিষ্ট পার্কিং জোনেই আসছে। স্টেশন গেটের সামনে সরাসরি গাড়ি তোলার সুযোগ বর্তমানে সীমিত। তার উপর নির্মাণকাজ চলায় চলমান সিঁড়ি ও লিফট অনেক সময় বন্ধ থাকছে, ফলে যাত্রীদের অসুবিধা আরও বাড়ছে। চারিদিকে ধুলোবালির কারণে মাস্ক ব্যবহার করেও চলাচল করছেন অনেকে।
তবে এই সাময়িক অসুবিধার আড়ালেই তৈরি হচ্ছে এক আধুনিক রেল টার্মিনালের ভিত্তি। জি প্লাস সিক্সের আধুনিক অফিস বিল্ডিং গড়ে উঠছে স্টেশন চত্বরে। উপরের তিনটি তলায় থাকছে বাণিজ্যিক পরিসর—যেখানে তৈরি হবে ফুড কোর্ট ও একটি থ্রি-স্টার হোটেল। পরিকল্পনায় রয়েছে আলাদা এলিভেটেড ডিপারচার জোন ও পৃথক দুটি অ্যারাইভাল জোন।
আরও পড়ুন- নাম সংকীর্তনের হরিবাসর থেকে হরির লুুঠ! প্রাচীন রীতি মেনে দোল উৎসব পালিত হাওড়ার এই অঞ্চলে
সমস্ত প্ল্যাটফর্মকে সংযুক্ত করতে নির্মিত হবে একটি এয়ার কনকোর্স এবং প্রতিটি প্ল্যাটফর্মে বসানো হবে এলিভেটর, এস্কেলেটর ও লিফট। পাশাপাশি বর্তমান পার্কিংয়ের পাঁচগুণ সম্প্রসারণ ও দু’তলা বিশিষ্ট নতুন পার্কিং বিল্ডিং তৈরির কাজও এগোচ্ছে। দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের জন্য তৈরি হবে আলাদা ভবন, এবং স্টেশনে যুক্ত হবে আরও দুটি নতুন প্ল্যাটফর্ম। বর্তমানে ১ ও ২ নম্বর প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার হচ্ছে, আর ৭ ও ৮ নম্বরে চলছে জোরকদমে কাজ।
এনজেপির সহকারী ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (ADRM) অজয় সিং জানিয়েছেন, স্টেশনে “আমূল পরিবর্তন” আসতে চলেছে। তাঁর কথায়, শুধু অবকাঠামো নয়, পরিষেবার মানও আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের সুবিধা, নিরাপত্তা ও গতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, আজ সাময়িক অস্বস্তি থাকলেও ভবিষ্যতের ছবি অনেকটাই স্পষ্ট। বদলে যাওয়া এনজেপি শুধু একটি স্টেশনের রূপান্তর নয়, এটি উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থার এক বড় পদক্ষেপ। তাই ট্রেন থেকে নেমে একটু ধৈর্য রাখুন, পথ জেনে এগোন—কারণ আগামী দিনের এনজেপি হতে চলেছে আরও আধুনিক, আরও গতিময়।





