সেইমতো পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন স্থানীয় থানার পক্ষ থেকে পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তমলুক সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের সভাপতি সুজিত কুমার রায় জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের কাছে একটি তালিকা এসেছে সেই তালিকায় ১৬ জনের ডিএনএ ম্যাচ করেছে প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের আজ শনিবার নরেন্দ্রপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হবে তারপর তাদের হাতে নিহতদের দেহাংশগুলি তুলে দেওয়া হবে ।
advertisement
যাদের দেহাংশ তুলে দেওয়া হবে তারা হলেন :- ১) কার্তিক জানা বাড়ি নন্দকুমার, ২) নান্টু খাড়া, বাড়ি সুতাহাটা, ৩) সুব্রত খাড়া বাড়ি সুতাহাটা, ৪) প্রসেনজিৎ ঘড়া বাড়ি পাঁশকুড়া, ৫) সন্দীপ কুমার মাইতি বাড়ি নন্দকুমার, ৬) কৃষ্ণেন্দু ধারা বাড়ি পিংলা, ৭) গুরুপদ সাউ বাড়ি তমলুক ৮) বাসুদেব হালদার বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনা ৯) বাসুদেব বেরা বাড়ি পাঁশকুড়া ১০) বুদ্ধদেব জানা বাড়ি ময়না ১১) বিশ্বজিৎ সাউ বাড়ি পিংলা ১২) ক্ষুদিরাম দিন্দা বাড়ি তমলুক ১৩) শশাঙ্ক জানা বাড়ি তমলুক, ১৪) বিমল মাইতি বাড়ি তমলুক , ১৫) জয়দেব মাঝে বাড়ি পাঁশকুড়া, ১৬) রামকৃষ্ণ মন্ডল বাড়ি তমলুক, ১৭) সুজিত সিং বাড়ি নন্দকুমার ১৮) তপন কুমার দোলুই বাড়ি পাঁশকুড়া।
গত ২৬ শে জানুয়ারি সাধারণতন্ত্র দিবসের রাতে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। নরেন্দ্রপুরের নাজিরাবাদ এলাকার দুটি গুদাম এর মধ্যে একটি বহুজাতিক মোমো তৈরীর কারখানা, আরেকটি ডেকোরেটাসের গুদাম রয়েছে। আগুন লাগার সময় গুদামে কাজ করছিলেন বহু শ্রমিক তাদের মধ্যে অধিকাংশ পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা।
সেই ঘটনায় ২৭ জনের পরিবারের তরফে নিখোঁজ ডায়েরি করা হয় নরেন্দ্রপুর থানায়। মৃতদেহগুলি পুরে অবস্থা এমন হয়েছিল যে সনাক্ত করা দুরহ হয়ে পড়ে। সেজন্য ডিএনএ ম্যাপিং এর প্রয়োজন পড়ায় নিহতদের নিকট আত্মীয়দের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। রক্তের নমুনা গুলি বারুইপুর মহকুমা হাসপাতাল থেকে সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট ল্যাবে পাঠানো হয়। সেখানে পোড়া দেহাংশ গুলির সঙ্গে রক্তের নমুনার ডিএনএ ম্যাপিং হয় । ম্যাপিংয়ে ১৮ জনের নমুনা মিলে গিয়েছে এখনো নয়জনের দেহাংশ ডিএনএ মেলানো সম্ভব হয়নি খুব শীঘ্রই সেগুলি চলে আসবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। পরে পঞ্চায়েত থেকে মৃতদের পরিবারকে ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে নিহত পরিবারকে সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায। ডেথ সার্টিফিকেট পেলে সেই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হবে বলে জানা যায়।
এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত ধৃত তিনজন ডেকোরেটার্সের গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাস এবং মোমো কারখানা দুই ম্যানেজার রাজা চক্রবর্তী ও মনোরঞ্জন সিট আপাতত এখন বারুইপুর সংশোধনাগারে বন্দি রয়েছে।
Suman Saha






