মুর্শিদাবাদ জেলায় বিড়ি শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে প্রায় ১২ -১৩ লক্ষ লোক জড়িয়ে রয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ১০ লক্ষ লোকের বাস জঙ্গিপুর মহকুমায়। তামাক পাতা সহ বিভিন্ন রকমের জিনিস থেকে ধোঁয়া, ধুলো ও বিষাক্ত পরিবেশে কাজ করার ফলে বিড়ি শ্রমিকদের মধ্যে ফুসফুসের রোগ, যক্ষ্মা, শ্বাসকষ্ট, ত্বকের বিভিন্ন রোগ খুব সাধারণ একটি সমস্যা। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ সামশেরগঞ্জে বিড়ি শ্রমিকদের জন্য নির্মিত এই বিশেষ হাসপাতাল।
advertisement
আরও পড়ুনঃ উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার দিনেই বিপত্তি! মাঝরাস্তায় উল্টে গেল টোটো, আহত ৬ পরীক্ষার্থী
মুর্শিদাবাদ জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সন্দীপ সান্যাল জানিয়েছেন, বিড়ি শ্রমিকদের চিকিৎসার জন্য ইতিমধ্যেই রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের তরফ থেকে এই হাসপাতালের জন্য ১৪ জন চিকিৎসককে নিয়োগ করা হয়েছে। সামশেরগঞ্জবাসী তথা জঙ্গিপুরের বাসিন্দা গর্ভবতী মহিলাদের উন্নততর চিকিৎসার জন্য ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে অনুপনগরে ৩০০ শয্যার ‘মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাব’ তৈরি হয়েছে। মহিলাদের এই হাসপাতালের ঠিক উল্টোদিকে তৈরি হয়েছে বিড়ি শ্রমিকদের হাসপাতাল।
এই ১০০ শয্যার হাসপাতালে রোগী ও রোগীর আত্মীয়রা চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন। গঙ্গা নদীর ভাঙন কবলিত সামশেরগঞ্জে বিড়ি শ্রমিকদের জন্য অত্যাধুনিক হাসপাতাল তৈরি হয়ে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাগুলির জন্য এখানকার মানুষদের আর জঙ্গিপুর হাসপাতাল বা বহরমপুরে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যেতে হবে না।
সূত্রের খবর, বিড়ি শ্রমিকদের হাসপাতালে ১৫০ শয্যার পরিকাঠামো থাকলেও আপাতত ১০০ শয্যা নিয়ে বিড়ি শ্রমিকদের এই হাসপাতালটি পথচলা শুরু করল। পরবর্তীকালে পরিকাঠামো এবং ডাক্তারদের সংখ্যা বাড়লে শয্যাসংখ্যা বাড়ানো হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিড়ি শ্রমিকদের এই হাসপাতালে জন্য স্বাস্থ্য দফতরের তরফ থেকে ইতিমধ্যেই দু’জন অর্থপেডিক চিকিৎসক, দু’জন ইএনটি, দু’জন চোখের চিকিৎসক, দু’জন বক্ষ রোগ বিশেষজ্ঞ সহ আরও একাধিক চিকিৎসককে নিয়োগ করা হয়েছে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
এর পাশাপাশি হাসপাতালের পরিকাঠামোর জন্য ১৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে উন্নত মানের এক্স-রে মেশিন বসানো হয়েছে। বিড়ি শ্রমিকদের চিকিৎসার জন্য ২৯টি আইসিইউ শয্যাও চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালে ভর্তি হলে বিড়ি শ্রমিকেরা প্যাথলজির সমস্ত সুবিধা পাবেন। এই হাসপাতাল সারাদিন খোলা থাকে বলে জানা গিয়েছে।





