এই ঘটনার ৪০ বছর পর ভিটে মাটিতে ফিরলেন অনিল কুমার। হতবাক গ্রামবাসীরা। জানা গিয়েছে, তিনি কাজের সূত্রে সেই সময় ভাইদের সঙ্গে কাতরাসে গিয়েছিলেন। সেখানে একটি কারখানায় কর্মরত ছিলেন তিনি। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর।
সেই সময় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধির হত্যার ঘটনা ঘটে। চারিদিক উত্তাল হয়ে ওঠে সেই সময়। তারপরেই যেন সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে ছোট্ট অনিল তখন একটি মিষ্টির দোকানে গিয়ে আশ্রয় নেয়। এবং সেখান থেকে পরবর্তীতে চলে যান কলকাতায়। তাঁর ভাইয়েরা তাঁকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন। কিন্তু কোথাও তার খোঁজ পাওয়া যায় না। এরপর একসময় পরিবারের সদস্যরা ধরেই নেন অনিলবাবুর সঙ্গে কোনও দুর্ঘটনা ঘটে গিয়েছে।
advertisement
আরও পড়ুন: বিপুল সংখ্যক কর্মী নিয়োগ মালদহ স্বাস্থ্য বিভাগে! জেনে নিন আবেদনের শেষ তারিখ
কিন্তু নিয়তির হয়তো অন্য কিছুই ভাবনা ছিল। কলকাতায় যাওয়ার পর অনিলবাবু দীর্ঘ ওঠা-পড়ার সম্মুখীন হন। চরম সংগ্রাম করে নিজের জীবন জীবিকা নির্বাহ করেন। সেখানেই নতুন করে বন্ধুবান্ধব তৈরি হয় তাঁর। একসময় কলকাতাতেই সংসার পাতেন তিনি।
অতীতের সমস্ত কথা প্রায় ভুলেই গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ধীরে ধীরে মাঝবয়সে এসে তাঁর স্মৃতিতে পুরনো কথা মনে পড়ে। বেশ কয়েকবার তিনি পুরুলিয়ায় ফিরতে চেয়েও পারেননি। অবশেষে সমস্ত বাধাকে অতিক্রম করে তিনি ফিরে আসেন নিজের দেশের বাড়িতে। প্রথমে তাঁকে দেখে সকলেই অবাক হয়ে যান। বাবা-মা পরলোক গমন করেছেন। রয়েছেন শুধু দাদারা। মাঝবয়সি ভাইকে দেখে তাঁরা আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। চোখের জলে ভাইকে বুকে টেনে নেন তাঁরা। আবেগে চোখের জলে ভাসছেন তাঁর বন্ধুরাও।
আরও পড়ুন: ‘শুনলে চমকাবেন, SIR-এ মহিলাদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে’, আইপ্যাকে ইডি-কাণ্ডের মাঝেই বড় অভিযোগ মমতার
এ বিষয়ে অনিল কুমার জানান, নানান কারণে তিনি নিজের ভিটে মাটিতে ফিরতে পারেননি। অবশেষে ৪০ বছর পর তিনি ফিরে এসেছেন নিজের বাড়িতে। তাঁর ভীষণই ভাল লাগছে। তাঁর দাদা ও ভাইরা বলেন, তাঁরা কখনও ভাবতেই পারেননি তাঁদের ঘরের ছেলে এইভাবে ফিরে আসবে। তাঁরা ভীষণই খুশি অনিলবাবু ফিরে আসায়।
৪০ বছর আগে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া কিশোর আজ পৌঢ়। ভিটেমাটির প্রতি টান ও পরিবারের ফিরে আসার তাগিদ প্রমাণ করে দিল সময় বদলালেও রক্তের সম্পর্কের বদল ঘটে না। ৪০ বছর পর গ্রামের ছেলে গ্রামে ফিরে আসায় খুশির জোয়ার গোটা গ্রামে।





