সেই থেকেই অস্তিত্ব পাওয়া যায় পাল সম্রাট সম্পর্কে ইতিহাসের। এরপর সেখানে খননকার্যে বেরিয়ে আসে শতাব্দী প্রাচীন বৌদ্ধ বিহারের ধ্বংসাবশেষ। ইতিহাসবিদ কৃষ্ণমোহন মণ্ডল জানান, “তাম্রফলকের লেখায় জানা যায়, বজ্রদেবের অনুরোধে সম্রাট মহেন্দ্রপাল বৌদ্ধ ভিক্ষুদের এই জমি দান করেছিলেন। নবম শতকে পাল সম্রাটরা উত্তর ভারত, উত্তর-পূর্ব ভারত, নেপাল, বাংলাদেশ সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে শাসন করতেন এবং সেই সময়ে জগজীবনপুরের এই বৌদ্ধ বিহার বৌদ্ধধর্মের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে।”
advertisement
তাম্রফলকটি উদ্ধার করেন এলাকার বাসিন্দা জগদীশ গাইন। তিনি জানান, “১৯৮৭ সালের ১৩ মার্চ কৃষিকাজ করার সময় তাঁর হাতে আসে প্রায় ১১ কিলো ৮০০ গ্রাম ওজনের ওই তাম্রফলক। ঘটনার পর আর্কিওলজি অ্যান্ড মিউজিয়ামস দপ্তরের একটি দল ১৯৯২ সালে জগজীবনপুরের তুলাভিটা ঢিবিতে খননকার্য শুরু করে। খননের ফলে ধীরে ধীরে সামনে আসে ইটের তৈরি বিশাল এক বৌদ্ধবিহারের কাঠামো।
সেখানে স্তূপ, ভিক্ষুদের বসবাসের ঘর, বারান্দা, শৌচালয় ও প্রবেশদ্বারসহ একটি সুবিশাল মঠের চিহ্ন মিলেছে। পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে পোড়ামাটির ফলক, শীলমোহর, খোদাই করা মাটির পাত্র, পুঁতি এবং সেই সময়ের দৈনন্দিন জীবনের নানা নিদর্শন।”
বর্তমানে জগজীবনপুরের এই বৌদ্ধবিহার একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেলেও পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থা নেই। বাউন্ডারি ওয়াল ছাড়াই উন্মুক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে নবম শতকের এই ঐতিহাসিক নিদর্শন। পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে এখানে একটি মিউজিয়াম গড়ে তোলার দাবি তুলছেন পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
JM Momin





