বয়সের ভার, তার সঙ্গে একাধিক শারীরিক সমস্যা। পরিবারের চোখে তখন শুধু অনিশ্চয়তা আর ভয়। কিন্তু সেই দুশ্চিন্তার মাঝেই আশার আলো দেখাল নয়াগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল। হাসপাতালে নিয়ে আসার পর জানা যায়, তাঁর কোমরের নিচের পায়ের জয়েন্টের হাড় ভেঙে গিয়েছে, হাতেও ফাটল। ৯৬ বছর বয়সে এমন জটিল অস্ত্রপচার সত্যিই বড় চ্যালেঞ্জ। তবুও হাল ছাড়েননি চিকিৎসকরা। দফায় দফায় চলে নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা।
advertisement
পরিবারের সঙ্গে কথা বলে ধাপে ধাপে চিকিৎসা শুরু হয়। প্রথমে অন্যান্য শারীরিক সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তারপর ধীরে ধীরে তাঁকে অস্ত্রপচারের জন্য প্রস্তুত করা হয়। অ্যানাস্থেসিয়া বিভাগের ছাড়পত্র মিলতেই অর্থোপেডিক বিভাগের চিকিৎসকেরা অপারেশন করেন। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে অস্ত্রপচার। তাতেই অবশেষে মিলেছে স্বস্তি। জটিল এই অস্ত্রপচারের পর সুস্থ সত্যভামা দেবী। একটি সফল অপারেশন নয়, এটি মানবিকতা, দায়িত্ববোধ এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের সম্মিলিত সাফল্যের গল্প বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
হাসপাতাল সুপার দেবাশীষ মাহাতো বলেন, চিকিৎসকের কাজ একজন রোগীকে সুস্থ করে তোলা। খুব কষ্টসাধ্য ছিল। তবে চিকিৎসকরা আশা ছাড়েন নি। এমন বয়সে এই অস্ত্রপচার বেশ নজির কাড়বে গোটা রাজ্যে। নয়াগ্রাম হাসপাতালের এই সাফল্য সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের মনে নতুন ভরসা জাগিয়েছে। শুধু তাই নয়, জঙ্গলমহলে চিকিৎসার নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। ৯৬ বছরের এক মায়ের হাসিই যেন হয়ে উঠেছে সেই ভরসার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।






