প্রতি বছর সরস্বতী পুজোর সময় এখানেই দেখা যায় এক অভিনব ও ব্যতিক্রমী রীতি। বিদ্যার দেবীর পাশেই পুজিত হন স্বয়ং গজরাজ, যাঁকে গ্রামবাসীরা ‘মহাকাল ঠাকুর’ নামে মান্যতা দেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরস্বতী পুজো সম্পন্ন হওয়ার মাত্র ১০-১৫ মিনিটের মধ্যেই শুরু হয় মহাকাল ঠাকুরের পুজো। সরস্বতী প্রতিমার পাশেই থাকে গজরাজের প্রতীকী আসন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই রীতিকে আজও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে চলেছেন কাওয়াগাব গ্রামের মানুষ।
advertisement
আরও পড়ুন: প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে গেল অনাথ আশ্রমের স্কুল, খুশিতে ডগমগ পড়ুয়ারা! খুলে গেল নতুন স্বপ্নের দরজা
এই পুজোর অন্যতম আকর্ষণ মহাকাল ঠাকুরের প্রসাদ। প্রসাদ হিসেবে রাখা হয় একটি সম্পূর্ণ কলাগাছ। বিশ্বাস করা হয়, গভীর রাতে জঙ্গল থেকে এসে ভগবান গজরাজ সেই কলাগাছ ভক্ষণ করেন। পরদিন সকালে কলাগাছের ক্ষয়চিহ্ন দেখেই গ্রামবাসীদের দৃঢ় বিশ্বাস ,তাঁদের আরাধনা গ্রহণ করেছেন মহাকাল। শুধু পুজোমণ্ডপেই নয়, গোটা কাওয়াগাব গ্রাম জুড়েই চোখে পড়ে গজরাজের উপস্থিতি। বিভিন্ন পাড়া-মোড়ে গজরাজ ও অন্যান্য দেবদেবীর প্রতীকী স্থাপন যেন মানুষ ও প্রকৃতির সহাবস্থানের বার্তা বহন করে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
গ্রামবাসীদের কথায়, এই পুজো শুধুই ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি এক অতীতের ঐতিহ্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ। জঙ্গল, বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানের শিক্ষা দেয় এই রীতি। তাই সরস্বতী পুজোর সঙ্গে সঙ্গে গজরাজ তথা মহাকাল পুজোর প্রস্তুতিও চলে সমানতালে। সব মিলিয়ে কাওয়াগাব গ্রামে এই সময়ে উৎসবের আবহে মিশে যায় লোকবিশ্বাস, সংস্কৃতি আর প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের আত্মিক সম্পর্ক যা আজকের দিনে সত্যিই বিরল।





