জলপাইগুড়ির মার্চেন্ট রোড জুড়ে উপচে পড়া ভিড় নজর কাড়ছে। নতুন পোশাক, গৃহস্থালির সামগ্রী, উৎসবের কেনাকাটায় এখন ব্যস্ত ক্রেতারা। সামনেই যে নববর্ষ! আধুনিকতার এই ব্যস্ত ছন্দের মাঝেই চোখে পড়ে এক অন্য ছবি, যা যেন সময়ের স্রোতেও মুছে যায়নি। রাস্তার এক কোণে চুপচাপ বসে আছেন আবির হোসেন। সামনে সাজানো লাল মলাটের হালখাতা। বাপ-ঠাকুরদার আমল থেকে চলে আসা এই ব্যবসাকেই আঁকড়ে ধরে তিনি প্রতি বছর চৈত্র মাসে হাজির হন শহরে।
advertisement
আরও পড়ুন: গ্যাসের পর এবার পেট্রোল? বাঁকুড়ার পাম্পে লম্বা লাইন, চরম উৎকণ্ঠায় সাধারণ মানুষ
বাংলা নববর্ষের আগে হালখাতা যে এখনও বাঙালির ব্যবসায়িক সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তাঁর উপস্থিতিই যেন তার প্রমাণ। এক সময় দোকানপাটে পুরনো হিসাব বন্ধ করে নতুন খাতা খোলার এই প্রথা ছিল একপ্রকার উৎসব। এখন প্রযুক্তির দাপটে সেই চাহিদা কিছুটা কমলেও ঐতিহ্যের টান আজও টিকে আছে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
৫০ থেকে ৫০০ টাকার বিভিন্ন দামের ছোট-বড় হালখাতা সাজিয়ে বসেছেন আবির। সবই তাঁর নিজের হাতে তৈরি বা সংগ্রহ করা। প্রায় তিন দশকের বেশি সময় ধরে একই জায়গায় বসে ব্যবসা করছেন তিনি। ক্রেতা কমেছে, কিন্তু পুরনো গ্রাহকদের ভরসায় এখনও চলছে এই পথচলা। শহরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক যেন শুধু ব্যবসার নয় এক গভীর আবেগের বন্ধনও বটে। চৈত্র সেলের কোলাহলের মাঝেও তাই মার্চেন্ট রোডের এক কোণে বেঁচে রয়েছে এক টুকরো ইতিহাস, এক টুকরো ঐতিহ্য। যা শহরবাসীকে মনে করিয়ে দিচ্ছে সময় বদলালেও কিছু গল্প কখনও পুরনো হয় না!





