ইতিমধ্যেই ক্যানিং পূর্ব থেকে শওকত মোল্লাকে সরিয়ে ভাঙড়ে প্রার্থী করেছে দল। ক্যানিং পূর্বে এবার ভাঙড়ের নেতা বাহারুলকে দাঁড় করিয়েছে তৃণমূল। এবার সেই ক্যানিং পূর্বে আরাবুলকে নিয়ে চলে গিয়েছে আইএসএফ। সেরকম ভাবে দেখতে গেলে ভাঙড়ে এবার জোর টক্কর হতে চলেছে নওশাদ এবং শওকতের মধ্যে৷
সম্প্রতি ফুরফুরা শরিফে আইএসএফে যোগদান করেই শওকত মোল্লার বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন আরাবুল৷ সেই সময় শওকতও পাল্টা দাবি করেছিলেন যে, ‘‘আরাবুল ইসলামের অত্যাচারের কারণেই অনেক কর্মী আইএসএফে গিয়েছিল। আমি তাদের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, তারা আবার তৃণমূলে ফিরে আসুক।’’ সেই শওকতের ফেলে যাওয়া কেন্দ্রেই প্রার্থী হলেন আরাবুল৷
advertisement
অন্যদিকে, বামেদের সঙ্গে জোট সমঝোতায় পাত্তা না দিয়ে উত্তর ২৪ পরগনার ৭টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে আইএসএফ। তার মধ্যে অশোকনগরে তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়, আমডাঙায় বিশ্বজিৎ মাইতি, মধ্যমগ্রামে প্রিয়াঙ্কা বর্মণ, বাদুড়িয়ায় কুতুবুদ্দিন ফতেহি, হাড়োয়ায় পিয়ারুল ইসলাম এবং বসিরহাট উত্তরে মুছা করিমুল্লা প্রার্থী।
সদ্য তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে আসা আরাবুল ইসলামকে ক্যানিং পূর্ব এবং মফিদুল হক শাহজি (মিন্টু)-কে দেগঙ্গায় টিকিট দিয়েছে আইএসএফ।
পাঁশকুড়া পশ্চিম কেন্দ্রে সিপিএমের পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সম্পাদক নিরঞ্জন সিহি প্রার্থী, সেখানে আইএসএফ দাঁড় করিয়েছে নিহত কুরবান শাহের ভাই আফজ়ল আলি শাহকে।
নন্দীগ্রামে সিপিআইয়ের প্রার্থী শান্তি গিরি, সেই কেন্দ্রে আইএসএফের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে মহম্মদ সবে মিরাজ খানকে।
বামেদের সঙ্গে সমঝোতার তবে কী পরিণতি হল? নওশাদ বলেছেন, ‘‘বিজেপি ও তৃণমূলকে হারাতে চাই। আমরা ৭ মাস ধরে আলোচনা চালিয়েছি। যেখানে বামফ্রন্ট শক্তিশালী, সেখানে আমরা তাদের সমর্থন করব এবং ষেখানে আইএসএফ পারবে বিজেপি ও তৃণমূলের সঙ্গে টক্কর দিতে, সেখানে বামেরা আমাদের সমর্থন করবে— এটাই চেয়েছি। শেষ মুহূর্তেও কথা বলেছি। তবু সমস্যা মেটানোর জন্য দু’টো দিন হাতে রাখলাম। আমরা বুধবার বাকি তালিকা ঘোষণা করব।’’
উত্তর ২৪ পরগনা প্রসঙ্গে নওশাদের যুক্তি, আগে তাঁরা যে সব আসনে লড়েছেন, সেখানেই প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। বাদুড়িয়া আগের বার ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল নির্দিষ্ট কারণে। তিনি আরও মনে করিয়েছেন, ‘‘কংগ্রেস গত বার প্রায় ১০০ আসনে লড়েছিল। আমরা কিন্তু সেই অনুপাতে আসন দাবি করিনি।’’
