প্রসেনজিৎ চৌধুরির দাবি, ফাল্গুনীর আগে বনগাঁর ট্যাংরা কলোনির এক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল এবং তাঁদের এক সন্তানও রয়েছে। পরে ফাল্গুনী জানতে পারেন তাঁর প্রথম পক্ষের স্বামী বাংলাদেশের নাগরিক। সেই থেকেই দাম্পত্য জীবনে অশান্তি শুরু। কিছুদিন পর সেই প্রথমপক্ষের স্বামী ছেলেকে নিয়ে চোরাপথে বাংলাদেশে পালিয়ে যায়। এরপর একাই থাকতে শুরু করেন ফাল্গুনী। সেই সময়ই তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় প্রসেনজিতের সঙ্গে। পরে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ২০২৩ সালে নিজের সন্তানের খোঁজ নিতে পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে যান ফাল্গুনী। অভিযোগ, সেখানে তাঁর প্রথম পক্ষের স্বামী তাঁর পাসপোর্ট ও অন্যান্য ভারতীয় পরিচয়পত্র কেড়ে নিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
advertisement
আরও পড়ুনঃ বাড়িতেই বানান বেকারি মতো নরম তুলতুলে পাউরুটি, ‘এভাবে’ বানালে হবে আরও সুস্বাদু, রইল সহজ রেসিপি
বিপদের মুখে ফাল্গুনী প্রসেনজিৎকে খবর দেন এবং প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দ্বারস্থ হন। কিন্তু বৈধ নথিপত্র না থাকায় তাঁকে বাংলাদেশ পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং পরে তিনি জেলবন্দি হন। ঘটনার কথা জানতে পেরে প্রসেনজিৎ বৈধ ভিসা ও পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে গিয়ে ঝিনাইদহ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। আদালতে ফাল্গুনীর বৈধ প্রবেশের নথিপত্র পেশ করা হলে আদালত তাঁর সাজা মকুব করে দেয়। এরপর স্ত্রীকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রসেনজিৎ ভারতের বিদেশমন্ত্রক, জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের কাছে একাধিকবার আবেদন জানান।
অবশেষে, দুই দেশের প্রশাসনিক সহযোগিতায় দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর এদিন সীমান্ত দিয়ে দেশে ফেরেন ফাল্গুনী। স্বামীর হাত ধরে বোয়ালদহের বাড়িতে ফিরতেই আনন্দে ভেসে যায় গোটা গ্রাম। এরপরই স্থানীয় প্রতিবেশী ও আত্মীয়রা ধুমধাম করে ফের তাঁদের বিয়ে দেন এবং সকলকে মিষ্টিমুখ করানো হয়। এ যেন এক অন্যরকম মুহূর্তের সাক্ষী থাকল গোটা এলাকা।






