আর মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ভোট। ফলে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তিনি আদৌ ভোট দিতে পারবেন কি-না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে দারুণ অনিশ্চয়তা। জানা গিয়েছে, সাঁকরাইল বিধানসভার সারেঙ্গা কলাতলা এলাকার বাসিন্দা নাজনিন খাতুন। ২০০২ সাল থেকেই ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল নাম। তারপর প্রতিটি নির্বাচনে নিয়মিত ভোট দিয়েছেন। ২০০৯ সালে মোহম্মদ মনিরুল ইসলাম মোল্লা’র সঙ্গে বিয়ের পর তাঁর নাম পরিবর্তিত হয়ে হয় নাজনিন মোল্লা। বর্তমানে তিনি হাওড়ার শিবপুরে বসবাস করেন।
advertisement
এসআইআর ও খসড়া তালিকায় তাঁর নাম না দেখতে পেয়ে বিষয়টি নিয়ে তৎপর হন। প্রক্রিয়া অনুযায়ী শুনানির জন্য ডাকা হয়েছিল। প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি নিয়ে তিনি হাজির হন শুনানি কেন্দ্রে। এদিকে নথি সমস্ত জমা করার পরেও তাকে কোনও রশিদ দেওয়া হয়নি, যে কারণে প্রতিবাদ জানান তিনি এবং তাঁর স্বামী গত ৩০ জানুয়ারি মানিকপুর পুলিশ ফাঁড়িতে একটি জেনারেল ডায়েরি (নম্বর ৬১৭) করেন। ,
কিন্তু প্রকাশিত সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় দেখা যায়, তাঁর নাম বাতিলের তালিকায়। সেখানে পিতার নাম আমেদ হোসেনের পরিবর্তে স্বামীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এরপর মঙ্গলবার তিনি সশরীরে জেলা নির্বাচনী দফতরে গিয়ে ইআরও-র সঙ্গে দেখা করেন। তাঁকে জানান হয়, ছ-নম্বর ফর্মে অ্যাপিলেট ট্রাইবুনালে আবেদন করতে হবে। তবে এখনও ট্রাইবুনাল গঠন না হওয়ায় কবে ও কীভাবে আবেদন করা যাবে, তা স্পষ্ট নয়।
এ প্রসঙ্গে নাজনিন মোল্লা জানান, ২০০২ সালের আগে থেকেই ভোটাধিকার রয়েছে। জন্ম সার্টিফিকেটও বর্তমান। এছাড়াও শ্বশুরবাড়ি এবং বাপের বাড়ি দুই পরিবার পূর্বপুরুষের বসবাস। ঠাকুমা-দাদু তাঁদের ভোটার লিস্টে নাম ছিল। সেই ভোটার নম্বরও রয়েছে বলে জানান তিনি। মায়ের বাপের বাড়ির ১৮০০ শতকের দলিল বর্তমান। হয়ত মাটি পরীক্ষা করলে ৪০০ বছর ছাড়িয়ে যাবে বসবাসের অস্তিত্ব। নাগরিকত্ব প্রমাণের দিক থেকে দুশ্চিন্তা সেভাবে না থাকলেও। এই অল্প সময়ে জটিলতা কাটিয়ে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভোট অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কিনা সে বিষয়ে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে।






