ইতিহাসবিদদের মতে, ‘এগরা’ নামটি এসেছে ‘অগরাপত্তনম’ শব্দ থেকে, যার অর্থ বাজার। বহু আগে এই অঞ্চল ছিল মেদিনীপুর জেলার অন্যতম প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র। এখানে প্রচুর মানুষের সমাগম হত। ধান, পাট, নুন ও মাছের ব্যবসা চলত এই জনপদ জুড়ে। সেই সময় এই অঞ্চলের কাছেই ছিল সমুদ্র উপকূল। তবে ঐতিহাসিকদের মতে, ধীরে ধীরে বালিতে ভরাট হয়ে উপকূল সরে যায় দূরে, ফলে আজ আর সমুদ্রের কোনও অস্তিত্ব নেই। এগরার কুদিতে একসময় একটি বাতিস্তম্ভ ছিল, যা প্রাচীন সমুদ্র তীরবর্তী বাণিজ্যের স্মৃতি বহন করে। সেই আলো পথ দেখাত বাণিজ্যতরীকে। বর্তমান শহরের প্রায় ২-৩ কিলোমিটার দক্ষিণে মুক্তেশ্বর মন্দিরের কাছে ছিল এই বাতিস্তম্ভ। এখন তার কোনও চিহ্ন নেই।
advertisement
আঞ্চলিক ইতিহাসবিদ বীরকুমার শী বলেন, “একসময় এই অঞ্চল ছিল বাণিজ্যপ্রধান। ধান, পাট ও লবণ উৎপাদিত হত এবং নৌকার মাধ্যমে তা বিভিন্ন স্থানে পৌঁছত। পরে গরুর গাড়ি সেই জায়গা নেয়। তবে আজ নৌকা বা গরুর গাড়ি কোনও কিছুর অস্তিত্ব নেই।” প্রবীণ ইতিহাসবিদদের মতে, এগরা একসময় ওড়িশার অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৫৬০-৬৪ সালের মধ্যে রাজা মুকুন্দদেবের আমলে সামন্ত রাজা দিব্যসুন্দর করমহাপাত্রের সহায়তায় হট্টনাগর শিবমন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়। মন্দিরের গর্ভগৃহ মাটির নিচে অবস্থিত। শিবরাত্রিতে এখানে বড় মেলা বসত, যার উল্লেখ ইংরেজ ঐতিহাসিকদের লেখায়ও রয়েছে। বছর ১৫ আগে এগরার পাঁচরোল থেকে একটি তাম্রফলক উদ্ধার হয়। ফলকটিতে ৬০১-৬২৫ খৃস্টাব্দ পর্যন্ত এগরায় গৌড়েশ্বর শশাঙ্কের শাসনকার্যের বিবরণ পাওয়া যায়।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
এগরার সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্রের। ১৮৬০ সাল থেকে প্রায় ১১ মাস তিনি এগরার নেগুয়া মহকুমার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পদে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে এগরার পুরভবন সংলগ্ন ডাকবাংলোতে তাঁর অফিস ছিল বলে জানা যায়। যার স্মৃতি আজও বহন করে এগরার মাটি।





