ঐতিহ্যের ছোঁয়া ও বিশুদ্ধতার অঙ্গীকার ভোলানাথের ঘানির তেল। বর্তমানে প্যাকেটজাত তেলের ভিড়ে মানুষ যখন স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তিত, তখন ভোলানাথের তৈরি এই ‘ঘানি ভাঙা’ তেল সাধারণ মানুষের কাছে আশার আলো। ভোলানাথ প্রামাণিকের মতে, যন্ত্রে তেল মাড়াই করার সময় অত্যাধিক তাপ উৎপন্ন হয়, যার ফলে তেলের স্বাভাবিক গুণাগুণ ও পুষ্টি নষ্ট হয়ে যায়। তদুপরি, বাজারের সস্তা তেলে মেশান রাসায়নিক স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকারক। ভোলানাথ প্রামাণিক জানান, “বাজারের তেলে ভেজাল আর কেমিক্যাল থিকথিক করছে। মানুষ রোগগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। আমি চাই মানুষ অন্তত এইটুকু খাঁটি জিনিসের স্বাদ পাক।”
advertisement
কাঠের ঘানি ও বলদ এক বিরল মেলবন্ধন। গ্রামের বাড়িতে গেলে দেখা যায়, বিশাল এক কাঠের ঘানিকে কেন্দ্র করে চক্কর কাটছে বলদ। নিম ও বাবলা কাঠের ঘানি ব্যবহারের বিশেষ কারণ রয়েছে—এই কাঠে তেল মাড়াই করলে তেলের ঝাঁঝ ও ঔষধি গুণ দীর্ঘস্থায়ী হয়। এই পদ্ধতিতে প্রতিদিন মাত্র পাঁচ থেকে ছয় লিটার তেল উৎপাদন হয়। পরিমাণ কম হলেও মানের দিক থেকে তা আপসহীন বা শুধু তেল নয়, লক্ষ্য যখন জৈব কৃষি, ভোলানাথ প্রামাণিকের লড়াইটা শুধু তেলের ঘানিতেই সীমাবদ্ধ নয়।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
তিনি প্রকৃতিপ্রেমী এক কৃষকও। নিজের কয়েক কাঠা জমিতে সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে ধান ও জবের চাষ করছেন তিনি। রাসায়নিক সার মুক্ত সমাজ গড়াই তাঁর মূল লক্ষ্য। যান্ত্রিক যুগের চাকচিক্য ছেড়ে তাঁর এই প্রথাগত পদ্ধতির প্রতি নিষ্ঠা আজ গোটা পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় বিশেষ পরিচিতি এনে দিয়েছে তাঁকে।





