বর্ধমানের বাজেপ্রতাপপুর এলাকার বাসিন্দা গৌরী মেহেরা। সাধনপুর স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী। বর্তমানে পরিবার বলতে ছোট্ট ভাই ও অসুস্থ ঠাকুমা, তাদের নিয়েই কঠিন লড়াই ছোট্ট গৌরীর। ঠাকুমা পরিচারিকার কাজ করে যা উপার্জন করেন তা দিয়েই চলে সংসার,পড়াশোনা থেকে শুরু করে যোগা। প্রতিদিন হয় না স্কুলে যাওয়াও। সপ্তাহে দুদিন স্কুলে যায় গৌরী কারণ ঠাকুরমা কাজে বেরিয়ে গেলে সংসার সামলানো থেকে ছোট ভাইয়ের দেখাশোনা সবই করতে হয় তাকে।
advertisement
নিজের পড়াশোনা,ঠাকুর ও ছোট্ট ভাইয়ের দেখাশোনা করেও সে সমানতালে চালিয়ে যাচ্ছে তার যোগাসন প্র্যাকটিস। ভবিষ্যতে যোগা নিয়েই এগোতে চায় সে। ইতিমধ্যে নানার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছে গৌরী। সম্প্রতি রাজ্যস্তরে প্রতিযোগিতা প্রথম হয়েছে সে, ট্রফি পাশাপাশি জিতেছে একটি স্কুটিও। ঠাকুরমাও চায় পড়াশোনার পাশাপাশি যোগাসন নিয়ে আরও এগিয়ে যাক গৌরী। গৌরীর ঠাকুমা দুলালী মেহেরা বলেন, ‘‘ছেলে মারা গেছে, বৌমাও ভেবে চলে গেছে। এখন নাতি নাতনি নিয়ে আমি একাই থাকি। আমি চাই গৌরী যোগা নিয়ে আরও এগিয়ে যাক।’’
সব হারানো এই কিশোরীর চোখে এখন কেবলই ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন। অভাবের সংসার, একাকীত্ব আর প্রতিকূলতাকে সঙ্গী করেই গৌরীর এই লড়াই প্রমাণ করে দেয় যে, অদম্য জেদ থাকলে ঘোরানো সম্ভব ভাগ্যের চাকাও।