আজ থেকে প্রায় ৫০ বছর আগে জেলায় প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরের সূচনা। ১৯৭৫ সালে সাধারণ মানুষের উদ্যোগেই পৌরসভায় পুরাকীর্তি সংগ্রহের উদ্বোধন হয়। এরপর রূপনারায়ণ নদীর বুকে বয়ে গিয়েছে বহু জল। ২০০০ সালে তমলুক পৌরসভা এই পুরাকীর্তি সংগ্রহ ভারতীয় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের হাতে হস্তান্তর করে। ওই সালেই তমলুক শহরে পাঁশকুড়া বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকার একটি ভাড়াবাড়িতে প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর শুরু হয়। তবে ভাড়াবাড়িতে অবস্থিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে এই জাদুঘরের প্রচার ছড়িয়ে পড়েনি। তাই ২০১৯ সালে ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ বর্তমান জেলাশাসক কার্যালয়ের সামনের একটি জায়গা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছ থেকে কিনে নেয়। অবশেষে সেই জায়গায় হতে চলেছে নতুন জাদুঘর ভবন।
advertisement
৩ ফেব্রুয়ারি তথা মঙ্গলবার নতুন জাদুঘর ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়। এই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপের মহাপরিচালক যদুবীর সিং রাওয়াত, ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের কলকাতা অঞ্চলের আধিকারিক সহ অন্যান্যরা।
এদিনের এই অনুষ্ঠানে প্রত্নতত্ত্ব জরিপের মহাপরিচালক যদুবির সিং রাওয়াত জানান, “প্রাচীন তাম্রলিপ্ত নগরী ও তাম্রলিপ্ত বন্দরের এক গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে। এর পাশাপাশি প্রাচীন তাম্রলিপ্ত নগরীর আর্কিটেকচার ও শিল্পকলা ঐতিহ্যশালী। কিন্তু বর্তমানে শুধুমাত্র ভাঙা রাজবাড়ি ছাড়া কিছুই নেই। তবে বিভিন্ন খননকার্যে তাম্রলিপ্ত নগরীর যে নিদর্শন মিলেছে, সেটা সাধারণ মানুষ থেকে ছাত্রছাত্রীদের জানা দরকার। তাই এই সংগ্রহশালা গড়ে তুলতে উদ্যোগী হয়েছে ভারতীয় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ। এই তমলুক জাদুঘর গড়ে উঠলে এটি একটি সংস্কৃতিকেন্দ্র করে হয়ে উঠবে।”
তাম্রলিপ্ত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও উপকরণগুলি স্থানীয় অপেশাদার প্রত্নতাত্ত্বিকদের সংগ্রহ। বেশিরভাগই নাটশাল, মহিষাদল, কাঁথি, তমলুক শহর, ইচ্ছাপুরের মতো নিকটবর্তী স্থান থেকে প্রাপ্ত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নিয়ে গঠিত। এবার একটি জাদুঘর নির্মাণের জন্য একটি নতুন ভবনের তৈরির কাজ শুরু হল।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
এই জাদুঘরের জন্য একটি প্রাচীণ কাঠামোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ভারতীয় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কলকাতা সার্কেল সূত্রে জানা যায়, নতুন জাদুঘর ভবন নির্মাণের জন্য ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। ২০২৭ সালের প্রাথমিক দিকেই নির্মাণ কাজ শেষ হবে। সব মিলিয়ে, আগামী দিনে এই জাদুঘর পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পর্যটন মানচিত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা গ্রহণ করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।





