পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুর ২ ব্লকের পিণ্ডরুই গ্রামের নিগমানন্দ মিশ্র। পেশায় তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পার্শ্বশিক্ষক। তবে মনে প্রাণে একটাই উদ্দেশ্য—কুসংস্কার দূর করে মানুষকে বিজ্ঞানমনস্ক করে তোলা। তিনি পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের একজন সক্রিয় সদস্য। সমাজে প্রচলিত নানা ভ্রান্ত ধারণা ও অন্ধবিশ্বাস দূর করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে চলেছেন তিনি। শুরুতে গান, কবিতা ও ছড়ার মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করতেন। বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে মানুষকে বোঝাতেন কুসংস্কারের ক্ষতিকর দিক।
advertisement
তবে পরে তিনি বুঝতে পারেন, নতুন ও আকর্ষণীয় উপায়ে বিষয়টি মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে। সেই ভাবনা থেকেই তিনি বেছে নেন কথা বলা পুতুলের অভিনব শিল্পকে। নিজের কণ্ঠস্বরের বিশেষ কৌশলে তিনি পুতুলকে এমনভাবে কথা বলান, যেন পুতুলটিই সব কথা বলছে। এই পুতুলের মাধ্যমেই তিনি বিজ্ঞানের নানা বিষয় তুলে ধরেন। কখনও কথা বলা পুতুলের মাধ্যমে দেখান বিজ্ঞানের আসল রহস্য। আবার কখনও বিভিন্ন কুসংস্কারের পেছনের সত্যিটা চোখে আঙুল দিয়ে বোঝান। দর্শকেরা আনন্দের সঙ্গে সেই সব বিষয় বুঝতে পারেন।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
নিগমানন্দ মিশ্রের কথায়, “আমি পশ্চিমবঙ্গের কোনায় কোনায় পৌঁছে যাই আমার এই কথা বলা পুতুলকে নিয়ে। প্রথমে গান, কবিতা ও ছড়ার মাধ্যমে মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করতাম কুসংস্কার কতটা ক্ষতিকর। কিন্তু পরে কথা বলা পুতুলের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করেছি। এতে মানুষ সহজেই বিষয়টি বুঝতে পারে।” এই অভিনব শিল্পকলার মাধ্যমে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মেলা ও সামাজিক অনুষ্ঠানে দর্শকদের মুগ্ধ করেন তিনি। শুধু পূর্ব মেদিনীপুর নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তিনি পৌঁছে যান তাঁর এই কথা বলা পুতুলকে নিয়ে। পুতুলকে সঙ্গী করেই কাটছে তাঁর দিনযাপন। আর সেই পুতুলই হয়ে উঠেছে তাঁর শিল্প ও জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দূর হচ্ছে কুসংস্কার।





