২৩ বছর বয়সে পেশাদার যাত্রা দলে যোগ দেন। সেখান থেকেই শুরু তার দীর্ঘ পথচলা। অল্প সময়েই নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেন। দর্শকদের মন জয় করে নেন অনায়াসে। যাত্রা মঞ্চে তিনি দ্রুতই হয়ে ওঠেন পরিচিত মুখ। নায়কের চরিত্রে তার অভিনয় ছিল নজরকাড়া। সংলাপ উচ্চারণে ছিল জোর ও আবেগ। ট্র্যাজেডি হোক বা সামাজিক পালা, সব চরিত্রেই মানিয়ে নিতেন নিজেকে। সেই সময় যাত্রা জগতে তার নাম ছড়িয়ে পড়ে ‘শ্রী ভট্টাচার্য’ হিসেবে। পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা ও ঝাড়গ্রাম জেলায় তার জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। দক্ষিণবঙ্গের জনপ্রিয় যাত্রা অভিনেতা ছিলেন। প্রায় ২০০-রও বেশি যাত্রাপালায় অভিনয় করেছেন তিনি।
advertisement
অনেক পালা তার অভিনয়ের উপর ভর করেই চলত। দর্শকের টান বাড়ত তার নাম শুনেই। শুধু নিজের সাফল্যেই থেমে থাকেননি শিবশঙ্কর পন্ডা। এলাকার বহু তরুণ-তরুণীকে হাতে ধরে অভিনয় শিখিয়েছেন। সংলাপ বলা, মঞ্চে হাঁটা, অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তোলা—সবকিছু ধৈর্য নিয়ে শেখাতেন। অনেকেই তার কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে আজ যাত্রা জগতে প্রতিষ্ঠিত। নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে দিতে সবসময় উৎসাহ দিতেন। তার বাড়ি ছিল একসময় শিল্পচর্চার কেন্দ্র। সন্ধ্যা নামলেই চলত মহড়া।
কিন্তু সময় কারও জন্য থেমে থাকে না। বয়সের ভার আজ তাকে নুইয়ে দিয়েছে। আগের মত আর মঞ্চে ওঠা হয় না। আলো ঝলমলে সেই দিনগুলো এখন স্মৃতি। শরীর সায় দেয় না দীর্ঘ অভিনয়ে। তবু মনে এখনও রয়ে গেছে মঞ্চের টান। গ্রামের মানুষ আজও শ্রদ্ধা করেন তাঁকে। যাত্রা জগতের কোলাহলে তিনি যেন ধীরে ধীরে আড়ালে চলে যাচ্ছেন। একদিন যিনি কাঁপিয়েছিলেন দক্ষিণবঙ্গের মঞ্চ, আজ তিনি নিঃশব্দ। বাংলার গ্রামেগঞ্জে এমন বহু প্রতিভা আছেন, যারা সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছেন। শিবশঙ্কর পন্ডার জীবন সেই বাস্তবতারই এক নিঃশব্দ সাক্ষ্য।





