তাম্রলিপ্ত মহাবিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগ ও বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান তন্ময় ভট্টাচার্যের তত্ত্বাবধানে একদল গবেষক দীর্ঘ দু’বছর ধরে এই কাজ চালিয়েছেন। স্থানীয় মৎস্যজীবীদের সহযোগিতায় সংগৃহীত নমুনার ডিএনএ (DNA) পরীক্ষা ও বাহ্যিক গঠন বিশ্লেষণের পর বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হন যে, এটি সম্পূর্ণ নতুন এক প্রজাতি। এই গবেষক দলে ছিলেন প্রীতিরঞ্জন পাহাড়ি, শুভদীপ মাইতি, সুদীপ্তা মণ্ডল ও মিতালী দাস। বিজ্ঞানীদের মতে, এই নতুন মাছটি ‘গোবিফর্মিস’ বর্গের ‘বুটিডি’ পরিবারভুক্ত। সাধারণ ভাবে আমরা এদের ‘বেলেমাছ’ হিসেবে চিনি। সমস্ত তথ্য বিশ্লেষণের পর ৫ মার্চ নিউজিল্যান্ডের আন্তর্জাতিক জার্নাল জুটাক্সা-র সাম্প্রতিক সংখ্যায় প্রকাশিত হয় এই নতুন প্রজাতির মাছের বিষয়।
advertisement
এই মাছের বৈশিষ্ট্য হল এরা মূলত ছোট মাছ ও চিংড়ি খেয়ে বেঁচে থাকে। দিনের বেলা শান্ত থাকলেও সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত এরা অত্যন্ত সক্রিয়। কাদা বা বালির রঙের সঙ্গে মিলিয়ে এরা নিজেদের দেহের রঙ সামান্য পরিবর্তন করতে পারে। নদের একদম তলদেশে কাদার ওপর এদের বাস। তমলুকের ঐতিহাসিক বর্গভীমা মন্দিরের গুরুত্ব ও স্থানীয় আবেগকে মাথায় রেখেই এই নামকরণ। গবেষক প্রীতিরঞ্জন পাহাড়ি জানান, “দেবী বর্গভীমার পুজোয় মাছ ভোগ দেওয়ার এক প্রাচীন প্রথা রয়েছে। স্থানীয় সংস্কৃতির সেই ঐতিহ্যের সঙ্গে বিজ্ঞানের সেতুবন্ধন গড়তেই এই নাম বেছে নেওয়া হয়েছে।”
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
গবেষকদের মতে, রূপনারায়ণ ও উপকূলবর্তী এলাকার জীববৈচিত্র অত্যন্ত সমৃদ্ধ। দূষণ ও অবহেলার কারণে বিপন্ন। অনেক প্রজাতি হয়ত জানার আগেই বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এই আবিষ্কার সেই বাস্তুতন্ত্র রক্ষার প্রয়োজনীয়তাকে নতুন করে মনে করিয়ে দিল। এর আগেও এই গবেষক দলটি সুন্দরবন থেকে নতুন প্রাণী আবিষ্কার করে নজির গড়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের জীববৈচিত্রের মুকুটে এই নতুন পালক এনে দিল তাম্রলিপ্ত মহাবিদ্যালয় এর প্রাণী বিভাগ। নতুন এই প্রজাতির আবিষ্কার সেই দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।





