জেলার মোট ৬,৩৪৫টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের মধ্যে প্রথম দফায় ২,৩৪৭টি কেন্দ্রে রান্নার গ্যাস সংযোগ স্থাপন করা হচ্ছে। এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪ কোটি টাকা। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গ্যাস সংযোগের পাশাপাশি প্রতিটি কেন্দ্রে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা (ফায়ার সেফটি ইকুইপমেন্ট) বসানো হচ্ছে। গ্যাস সিলিন্ডার ও ওভেন রাখার জন্য প্রয়োজনীয় টেবিল তৈরির কাজও শুরু হয়েছে জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে, যার জন্য অতিরিক্ত ৭২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন ধোঁয়া ও দূষণ কমবে, তেমনই রান্নার কাজে যুক্ত অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের কাজের সুবিধা ও নিরাপত্তা বহু গুণে বাড়বে।
advertisement
এতদিন পর্যন্ত প্রায় সমস্ত কেন্দ্রেই কাঠের উনুনে রান্না হত। যার ধোঁয়ায় মাঝেমধ্যে শিশু ও গর্ভবতী মহিলাদের অনেক সময় শ্বাসকষ্ট ও চোখের জ্বালাপোড়া সমস্যা হত। তবে এবার শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্যের মানোন্নয়নে নেওয়া হল গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার প্রতিটি আইসিডিএস বা সুসংহত শিশু শিক্ষা কেন্দ্রে শিশুদের জন্য পাঠশালার পাশাপাশি প্রতিদিন রান্না করা খাবার পরিবেশন করা হয়। মহিষাদল ব্লকে ২৪৫টি, রামনগর ১ ব্লকে ১৯৫টি, কাঁথি ২ ব্লকে ১১৮টি ও কাঁথি ১ ব্লকে ১৫৫টি সহ সমস্ত এলাকা মিলে ২৩৪৭টি কেন্দ্রে গ্যাস সিলিন্ডার দেওয়ার কাজ চলছে।
এই বিষয়ে জেলা শাসক ইউনিস ঋষিণ ইসমাইল বলেন, “অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে কাঠের জ্বালানির পরিবর্তে গ্যাসের জ্বালানি ব্যবহার করা হবে। প্রথম পর্যায়ে ২,৩৪৭টি কেন্দ্রে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে বাকি সমস্ত কেন্দ্রগুলিতেও ধাপে ধাপে এই ব্যবস্থা চালু করা হবে।”
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
প্রসঙ্গত, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে বর্তমানে প্রায় ৩ লক্ষ ৭৭ হাজার শিশু, ৩৫ হাজার ৮৮২ জন গর্ভবতী মহিলা এবং ২৮ হাজার ২১৮ জন প্রসূতি মা নিয়মিত পুষ্টিকর খাদ্য পাচ্ছেন। এই পদক্ষেপে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির পরিবেশ যেমন হবে আরও পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যসম্মত, তেমনই শিশুদের স্বাস্থ্যরক্ষায়ও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন প্রশাসনিক মহল। খুশি সাধারণ মানুষও।





