গ্রামের সাধারণ পরিবেশে বড় হয়ে ওঠা এক মেয়ে সঞ্চারী মাইতি আজ নিজের শিল্পীসত্তায় আলাদা পরিচয় গড়ে তুলেছে। ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকার প্রতি তাঁর অদম্য আগ্রহ ছিল। খাতা-কলম পেলেই সে আঁকত মানুষের মুখ, প্রকৃতি সহ নানা দৃশ্য। পরিবারের লোকজন প্রথমে এটিকে সাধারণ শখ বলেই ভাবতেন।
advertisement
খুব অল্প বয়সেই সঞ্চারীর আঁকার যাত্রা শুরু হয়। তাঁর বাবা ছিলেন সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। মেয়ের আগ্রহ বুঝতে পেরে রং, তুলি, খাতা এনে দিতেন তিনি। ধীরে ধীরে শখ পরিণত হয় নেশায়। স্কুলের পড়াশোনার ফাঁকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ছবি এঁকে কাটাতে শুরু করে সে। কোনও বড় প্রশিক্ষণ ছাড়া নিজেই মুখাবয়বের সূক্ষ্ম রেখা টানা শিখেছে সঞ্চারী। প্রতিটি ছবিতে থাকে মনোযোগ ও ধৈর্যের ছাপ। তাঁর পরিবারের মানুষজনও এখন গর্বের সঙ্গে মেয়ের হাতের কাজ দেখান অন্যদের। গ্রামের মানুষও ধীরে ধীরে চিনতে শুরু করেছেন এই প্রতিভাকে।
বর্তমানে রং-তুলির মাধ্যমে মনীষী, স্বাধীনতা সংগ্রামী, এবং জনপ্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রীদের প্রতিকৃতি আঁকেন সঞ্চারী। তাঁর আঁকা ছবিতে এত সূক্ষ্মতা থাকে অনেকেই প্রথমে বুঝতেই পারেন না এটি হাতে আঁকা। ওয়াটার পেইন্টিং ও অয়েল পেইন্টিং— দুই মাধ্যমেই তাঁর সমান দক্ষতা। বিশেষ করে প্রতিকৃতি আঁকায় সে পারদর্শী। বন্ধুবান্ধবদের আবদারে তাঁদের মুখমণ্ডলও তুলে ধরেছে ক্যানভাসে। সঞ্চারীর আঁকা ছবি অনেকেই উপহার হিসেবে ব্যবহার করেন। সামাজিক মাধ্যমেও ধীরে ধীরে তাঁর কাজ প্রশংসা পাচ্ছে। গ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়েই সে স্বপ্ন দেখছে বড় শিল্পী হওয়ার।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
বাংলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে আজও অসংখ্য প্রতিভা লুকিয়ে আছে। সুযোগ ও পরিচয়ের অভাবে তাঁরা অনেক সময় সামনে আসতে পারে না। সঞ্চারী মাইতির গল্প সেই অজানা প্রতিভারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ। সীমিত পরিসরে থেকেও বড় স্বপ্ন দেখা যায়, একথাই প্রমাণ করেছে সে। তাঁর শিল্পকর্ম শুধু নৈপুণ্যের পরিচয় নয়, অধ্যবসায়েরও ফল। সঠিক দিকনির্দেশ ও সুযোগ পেলে সে আরও বড় মঞ্চে পৌঁছতে পারবে— এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা।





