পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ওপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে ১৬ নম্বর জাতীয় সড়ক, ১১৬ নম্বর জাতীয় সড়ক ও ১১৬ বি নন্দকুমার দিঘা জাতীয় সড়ক। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় একদিকে হলদিয়া কোলাঘাটের মত শিল্পাঞ্চল এলাকা। অন্যদিকে দিঘা মন্দারমনির মত পর্যটনকেন্দ্র। আবার এই জেলায় প্রচুর পরিমাণে মাছ চাষ হয়। ফলে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় জাতীয় সড়ক থেকে রাজ্য সড়ক, এমনকি গ্রামীণ সড়কে যানবাহনের আধিক্য অনেকটাই বেশি। রাস্তাঘাটে যানবাহনের আধিক্য বেশি থাকায় প্রতিনিয়ত প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা বাড়ছে। দুর্ঘটনায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। পথ দুর্ঘটনায় প্রাণহানি রোধে এবার স্বাস্থ্য দফতর জেলা জুড়ে পথবন্ধু রাখছে।
advertisement
আরও পড়ুন: মানুষের থেকে লম্বা কলার কাঁদি, ইয়া বড় বড় বেগুন, লাউ, মুলো! দেখার জন্য হামলে পড়ছে মানুষ
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তিনটি জাতীয় সড়কের ৭০ টি ব্ল্যাক স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। জাতীয় সড়কে ওই ব্ল্যাক স্পট এলাকায় পথবন্ধু থাকবে। এই পথবন্ধুদের কাজ হল দুর্ঘটনাগ্রস্ত ব্যক্তিকে প্রাথমিক ট্রিটমেন্ট দেওয়া। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় এই প্রথম বন্ধুদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করেই পথবন্ধুরা দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেবে। আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে পাঠাবে। জেলার ডেপুটি সিএমওএইচ (ওয়ান) নারায়ণ মিদ্যা জানান, “এই পথবন্ধুরা চিকিৎসক নন, কিন্তু দুর্ঘটনাস্থলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আহতদের প্রাণ বাঁচাতে পারেন। তাই তাঁদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।”
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
বর্তমানে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় কোলাঘাট থেকে শুরু করে হলদিয়া ও দিঘা পর্যন্ত জাতীয় সড়কে মোট ১১৪ জন ‘পথ বন্ধু’ সক্রিয় রয়েছেন। প্রতিটি থানা ও দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকায় তাঁদের যোগাযোগ নম্বর দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জাতীয় সড়কের ধারে দোকানগুলিতেও এই নাম ও নম্বরের তালিকা রয়েছে, যাতে দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত যোগাযোগ করা যায়। সবমিলিয়ে, দুর্ঘটনা কমাতে এবং রাস্তায় যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নানা দফতরের সম্মিলিত এই উদ্যোগে আশাবাদী জেলার মানুষ। পথ দুর্ঘটনা মৃত্যুর হার এই উদ্যোগে কমবে বলে জানা যায় প্রশাসন সূত্রে।





