ছোটবেলা থেকেই জীবনের সঙ্গে লড়াই। অভাব ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। কখনও ঠিকমতো খাবার জোটেনি। কখনও বই কেনার টাকাও ছিল না। তবুও স্বপ্ন দেখা বন্ধ করেননি। গ্রামের ছোট ছোট অনুষ্ঠানে নাচ করতেন। পারিশ্রমিক ছিল মাত্র ১০ টাকা। সেই সামান্য টাকাই ছিল বড় ভরসা।
advertisement
ধীরে ধীরে নাচের পাশাপাশি মঞ্চ সঞ্চালনা শুরু করেন। গ্রামের মেলা, পুজো বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ডাক পড়তে থাকে। তাঁর কথাবলার ভঙ্গি ছিল আলাদা। সহজ ভাষায় কথা বলতেন। মানুষ হাসত। হাততালি পড়ত। আত্মবিশ্বাস বাড়তে থাকে। কিন্তু বড় মঞ্চে ওঠার সুযোগ তখনও আসেনি। একদিন হঠাৎ সুযোগ আসে। বাংলার একটি জনপ্রিয় কমেডি রিয়েলিটি শোতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান তিনি। আর্থিক সমস্যায় পড়লেও বন্ধুদের সাহায্য পান। সেই সাহায্যেই পৌঁছে যান অডিশনে। সেখান থেকেই বদলে যায় জীবনের মোড়।
টেলিভিশনের সেই জনপ্রিয় শো তাঁকে পৌঁছে দেয় লাখ লাখ মানুষের ঘরে। তাঁর অভিনয়, সংলাপ আর আঞ্চলিক টান দর্শকদের মন জয় করে। বিচারকদেরও মুগ্ধ করেন তিনি। ধীরে ধীরে তিনি পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে বাড়তে থাকে তাঁর জনপ্রিয়তা। বিভিন্ন মঞ্চে আমন্ত্রণ আসতে থাকে। শম্ভু নিজের মাতৃভাষা, মেদিনীপুরের আঞ্চলিক ভাষাকে শক্তি হিসেবে ব্যবহার করেন। সেই ভাষাতেই তিনি মানুষকে হাসান। সাধারণ জীবনের গল্প বলেন। গ্রামের কথাই তুলে ধরেন মঞ্চে। তাই দর্শক তাঁর মধ্যে নিজেদের খুঁজে পান।
আজ তিনি সফল। মাসে মোটা অঙ্কের রোজগার করেন। তবু ভোলেননি শিকড়। বাবা-মাকেই তিনি জীবনের ভগবান মনে করেন। তাঁদের আশীর্বাদই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। এখনও তিনি সহজ সরল মানুষ। সংগ্রামের দিনগুলো মনে রাখেন। তিনি বিশ্বাস করেন, কষ্ট ছাড়া সাফল্য আসে না। নিঃস্বার্থ পরিশ্রমই মানুষকে একদিন শিখরে পৌঁছে দেয়। শম্ভু মণ্ডলের জীবন সেই কথাই প্রমাণ করে। স্বপ্ন থাকলে সেই স্বপ্ন সফল করার পথ হয়ত নিজেই তৈরি হয়।
মদন মাইতি





