আর এই কাজ গ্রামে গ্রামে বেকারত্ব ঘুচিয়েছে। মূর্তি শিল্প থেকেই রোজগারের মাধ্যম খুঁজে পেয়েছেন তাঁরা। রাজস্থান থেকে মার্বেলের ব্লক নিয়ে আসা হয় কারখানাগুলিতে। তারপর ছেনি, হাতুড়ি কম্পাস ও গ্রাইন্ডিং মেশিনের সাহায্যে তৈরি হচ্ছে মূর্তি। মার্বেল পাথর থেকে মার্বেল এর মূর্তি তৈরি করে নিজেদের আর্থিক সংস্থানের পথ খুঁজে পেয়েছেন যুবকরা। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দকুমার থানার অন্তর্গত কোলসর, পুয়াদা, ঝাউতলা, বহিচবেড়িয়া সহ একাধিক গ্রামে জোর কদমে চলছে মূর্তি তৈরির কাজ। এইসব শিল্পগ্রামের বেকার যুবকদের পথ দেখিয়েছে এই মূর্তি তৈরি। হলদিয়া মেচেদা রাজ্য সড়কের পাশে পরপর রয়েছে এই মূর্তি তৈরির কারখানা। কারখানায় নানান ছোট বড় নানান সাইজের মূর্তি তৈরি হচ্ছে।
advertisement
এ প্রসঙ্গে এক মূর্তি কারিগর রঞ্জিত বেরা জানিয়েছেন, ‘প্রথমে রাজস্থান থেকে কারখানায় মার্বেলের ব্লক আসে। অর্ডার অনুযায়ী তৈরি হয় মূর্তি। বিভিন্ন মনীষীদের পাশাপাশি মৃত ব্যক্তির স্মরণে তাঁদের আত্মীয়রা প্রতিকৃতি তৈরি করেন মার্বেলের। এক একটা মূর্তি বানাতে গড়ে ছয় থেকে সাত দিন সময় লাগে। মূলত ছেনি হাতুড়ি দিয়েই পাথর কেটে কেটে মূর্তি তৈরির কাজ করা হয়। এক একজন কারিগর মাসে গড়ে কুড়ি থেকে পঁচিশ হাজার টাকা রোজগার করতে পারেন।’ বর্তমান সময়ে মার্বেল মূর্তির চাহিদা রয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন রাজ্যে। নন্দকুমারের এক মূর্তি ব্যবসায়ী জানান ‘জানুয়ারি মাস থেকে অর্ডার আসা শুরু হয়। তবে ফেব্রুয়ারির শেষে থেকে অর্ডার দ্বিগুণ হয়ে যায়।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
নন্দকুমার থেকে আসাম, ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশ সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মূর্তি সাপ্লাই হয়। এর পাশাপাশি নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন দেশে যায় এই এলাকার কারিগরের হাতে তৈরি মার্বেলের মূর্তি। নন্দকুমার এলাকায় মূর্তি তৈরির কারখানা রয়েছে বেশ কয়েকটি। প্রতি কারখানাতে গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন মূর্তি কারিগর কাজ করেন। মূলত স্থানীয়রা মূর্তি তৈরির কাজে যুক্ত। এর পাশাপাশি বিহার ও উত্তর প্রদেশ থেকেও মূর্তির কারিগররা আসেন নন্দকুমারে। ১৫ ইঞ্চি থেকে শুরু করে ছয় থেকে সাত ফুট উচ্চতা পর্যন্ত মূর্তি তৈরি হয়। বিভিন্ন সাইজ অনুযায়ী মূর্তির দাম হয়। বর্তমানে এই মার্বেল মূর্তির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। ফলে এই শিল্পে নতুন নতুন ছেলে মেয়েরা এগিয়ে আসছেন।





