অভিযোগ উঠেছে, কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী জন্ম শংসাপত্র বা পাসপোর্টের মতো অকাট্য প্রমাণপত্র জমা দেওয়ার পরেও গণহারে বাদ দেওয়া হয়েছে বৈধ ভোটারদের নাম। অথচ ওই সব ভোটারদের পূর্বসূরীদের নাম ভোটার তালিকায় জ্বলজ্বল করছে। প্রশাসনের নীরবতা এবং রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝে উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে হাজার হাজার মানুষের।
নির্বাচন কমিশনের পোর্টাল থেকে ডাউনলোড করে কিছু সংখ্যক ভোটার তালিকা দেখছেন। যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁরা উৎকন্ঠায়। আর যাঁদের এখনও নিষ্পত্তি হয় নি, তাঁদের ভাগ্য ঝুলে রইল। আদৌ ভোট দিতে পারবেন কি না, তাঁরা জানেন না।
advertisement
জামালপুর বিধানসভার অধীন, আলিমডাঙা গ্রামের ১৭ নম্বর বুথে ১০৪৬ জন ভোটারের মধ্যে ৩৩৬ জনের নাম ‘বিচারাধীন’ ছিল। দেখা যাচ্ছে, তার মধ্যে ২১৯ জনের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে গিয়েছে। বর্ধমান শহরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের ১০৯৪ জন ভোটারের নাম ‘বিচারাধীন’ ছিল। তালিকা বেরনোর পর দেখা যাচ্ছে, ৭৮৩ জনের নাম বাদ চলে গিয়েছে। ৫১ জনের নাম রয়েছে। বাকিদের নাম এখনও ঝুলে রয়েছে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
ওই ওয়ার্ডের তৃণমূলের পুর-প্রতিনিধি সাহাবুদ্দিন খান বলেন, “পাসপোর্ট ও জন্ম শংসাপত্র রয়েছে। তারপরেও নাম বাদ যায় কীভাবে? ওই সব ভোটারের বাবার নাম এখনও ভোটার তালিকায় রয়েছে।” বর্ধমান শহরের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের এক নম্বর অংশে ৪১৩ জনের নাম বিবেচনাধীন ছিল। তার মধ্যে ২২১ জনের নাম বাদ। ওই অংশের তৃণমূলের বিএলএ নূর ইসলাম বলেন, “জন্মশংসাপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। তারপরেও কীভাবে নাম বাদ যেতে পারে।”
ভোটার তালিকায় ‘ডিলিট’ হওয়া বর্ধমান পুরসভার বাসিন্দা শেখ নজরুল ইসলাম, রেশমি খাতুনদের দাবি, “নির্বাচন কমিশন জন্মশংসাপত্র জমা দিতে বলেছিল। আমরা সেই নথি জমা দিয়েছি। তারপরেও আমরা বাদ পড়লাম কীভাবে?” ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের পীর বাহারাম, সাহাচেতনের বাসিন্দা শেখ মুর্শেদ আলি, পিয়ারি বেগমদের দাবি, “আমরা জন্ম শংসাপত্র, বোর্ডের শংসাপত্র ও পাসপোর্ট জমা দিয়েছি। তারপরেও দেখছি নাম নেই।”
আউশগ্রামের বিষ্ণুপুর গ্রামে সাত নম্বর বুথে ২৪৩ জন বিচারাধীনের মধ্যে ২০৩ জনের নাম বাদ। আবার পুবার গ্রামে চারটে বুথে (২৪, ২৫, ২৬, ২৭) ৯১৬ জন ভোটারকে ‘বিচারাধীন’ করা হয়েছিল। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, ৬৮৭ জনকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। একটি সূত্রে জানা যায়, প্রথম তালিকায় পূর্ব বর্ধমানে ৫৩ হাজার ভোটারের নিষ্পত্তি হয়েছিল। তার মধ্যে ২১ হাজার নাম বাতিল হয়েছে, আর ২৯ হাজারের মতো নাম যোগ হয়েছে। বাতিলদের নাম তোলার জন্যে ‘অ্যাপিলেট কমিটি’র কাছে আবেদন করার উপরেই জোর দিচ্ছে বিরোধীরা।
জেলাপ্রশাসনের নির্বাচনী দফতরের সামনে ‘ড্রপ বক্স’ করা হয়েছে। এ ছাড়াও ভোটার তালিকায় নাম নেই, এ রকম কেউ জেলাপ্রশাসনকে নথি-সহ আবেদন করলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জেলাশাসক শ্বেতা আগরওয়াল জানিয়েছেন। জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলামেরও দাবি, “এটা পরিকল্পিত চক্রান্ত। বিজেপির কথাতেই কমিশন এভাবে নাম বাদ দেওয়ার খেলায় নেমেছে। কমিশন নাম তোলার জন্যে প্রচার করত, এ বার সম্পূর্ণ উল্টো। কোনও কোনও বুথে বিবেচনাধীন ভোটারের ৮০%-ও বাদ গিয়েছে। বিজেপি মানুষকে আতঙ্কে রেখে দিয়েছে।”






