পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুর ব্লকের আবুজহাটী ২ পঞ্চায়েত এলাকার ঐতিহ্যশালী গ্রাম কুলিনগ্রাম। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে রয়েছে এই গ্রামের নাম। শ্রীচৈতন্যদেবের আবির্ভাবের কিছু কাল আগে পূর্ব বর্ধমানের কুলীনগ্রামের ভূমিপুত্র মালাধর বসু রচনা করেছিলেন শ্রীকৃষ্ণবিজয় কাব্য। পরবর্তী সময়ে কুলীনগ্রামে এসেছিলেন স্বয়ং শ্রীচৈতন্য দেব। এখানেই তিনি ছিলেন ৩ দিন। এমনই উল্লিখিত রয়েছে চৈতন্যমঙ্গল কাব্যে।
advertisement
তাই কুলীনগ্রাম শ্রীচৈতন্য দেবের পদধূলি ধন্য বৈষ্ণব তীর্থস্থান হিসাবেই পরিচিতি পেয়ে আসছে দেশ জুড়ে। গ্রামের একেবারে শেষ প্রান্তে রয়েছে নামাচার্য হরিদাস ঠাকুরের আখড়া বা পাঠবাড়ি। আশ্রমিক সুন্দর গোপাল দাস বলেন, আজ থেকে প্রায় ৫৩০-৫৩৫ বছর আগে এই এলাকা ছিল জঙ্গলে ঘেরা এবং সেখানেই ছিল একটি বট বৃক্ষ। সেখানে বসেই তিন লক্ষ হরিনাম জপ করতেন হরিদাস ঠাকুর। পরবর্তী সময়ে অঘ্রাণ মাসের পূর্ণিমাতে শ্রীচৈতন্য দেব এসেছিলেন এই স্থানে এবং হরিদাস ঠাকুর ও গ্রামবাসীদের সঙ্গে পরিক্রমা করেন পুরো গ্রাম।
এই গ্রামে তিনি ছিলেন তিন দিন এবং নিমবকুল তলায় বসে বিশ্রাম নিয়েছিলেন। যেখানে এখনও রয়েছে তার পদচিহ্ন। পরবর্তীকালে এখানেই গড়ে ওঠে এই আখড়া বা পাটবাড়ি। পাটবাড়ির সামনেই রয়েছে একটি ডোবা। কথিত আছে এই ডোবাতে পা ধুয়েই নিমবকুল তলায় এসেছিলেন মহাপ্রভু। তাই এই ডোবা পরিচিত গৌর ডোবা নামে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর স্মৃতিবিজড়িত কুলীনগ্রাম আজও বৈষ্ণব ভাবধারার এক অন্যতম প্রাণকেন্দ্র।বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এই সুপ্রাচীন সংস্কৃতি ও ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে ‘আবুজহাটী’র এই ছোট্ট গ্রামটি আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে তার নিজস্ব মহিমায়।





