বুধবার সকালটা ছিল অন্য দিনের মতোই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই স্বাভাবিকতার আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক অজানা আশঙ্কা। পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন ঋত্বিক। মনের ভিতরে চলা অদৃশ্য লড়াই হয়তো কাউকে স্পষ্ট করে বোঝাতে পারেননি তিনি। সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর আর ফেরেননি। সময় গড়াতে থাকে, দুপুর পেরিয়ে বিকেল হয়ে যায়। সেই সঙ্গেই বাড়তে থাকে পরিবারের উৎকণ্ঠা।
advertisement
আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব সব জায়গায় খোঁজ শুরু হয়। পরিচিত প্রতিটি রাস্তায়, সম্ভাব্য প্রতিটি স্থানে ছুটে বেড়ান পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু কোথাও মেলে না ঋত্বিকের খোঁজ। এই পরিস্থিতিতে পুলিশের দ্বারস্থ হয় পরিবার। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে পরিবারের সদস্যরা নাদনঘাট থানার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ঋত্বিকের একটি ছবি পুলিশের হাতে তুলে দেন। বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখেন নাদনঘাট থানার আইসি বিশ্ববন্ধু চট্টরাজ। মানবিক দায়িত্ববোধ ও পেশাগত কর্তব্য- দুই মিলিয়ে দ্রুত তৎপরতা শুরু করেন তিনি।
থানার পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় খোঁজখবর চালানো হয়। টহলরত পুলিশ কর্মীদেরও সতর্ক করার পাশাপাশি যুবকের ছবি দেখিয়ে নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়। এরই মধ্যে পূর্বস্থলী ১ ব্লকের নাদনঘাট মোড় এলাকায় একটি পেট্রোল পাম্পের কাছে এক যুবককে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। বিষয়টি ডিউটিতে থাকা এক পুলিশ অফিসারের নজরে আসে। ছবির সঙ্গে মিলিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায় নিখোঁজ ঋত্বিকই এই যুবক। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে নিরাপদে থানায় নিয়ে আসা হয়। কথা বলে বোঝার চেষ্টা করা হয় তাঁর মানসিক অবস্থা। একইসঙ্গে পরিবারের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করা হয়।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
এরপর নাদনঘাট থানার আইসি বিশ্ববন্ধু চট্টরাজ নিজ উদ্যোগে ঋত্বিক বিশ্বাসকে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে দেন এবং পরিবারের হাতে তুলে দেন। হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাওয়া ছেলেকে ফিরে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা যেন নতুন জীবন ফিরে পান। চোখে জল, মুখে স্বস্তির হাসি, এক অমূল্য মুহূর্তের সাক্ষী থাকে সেই বাড়ি। পরিবারের পক্ষ থেকে নাদনঘাট থানার দ্রুত পদক্ষেপ, তৎপরতা এবং সর্বোপরি মানবিক আচরণের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে। পুলিশের এই ভূমিকা আবারও প্রমাণ করল, তাঁদের কাছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি মানবিক দায়িত্বও সমান গুরুত্ব পায়।






