পুজোকে কেন্দ্র করে টানা চারদিন ধরে বসে মেলা। চারদিন ধরে গ্রামজুড়ে থাকে উৎসবের আমেজ, দিনে মেলা, আর রাতে বাউল গান, যাত্রা সহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। এই চারদিনের অনুষ্ঠানের মধ্যেই একটি দিন বিশেষভাবে বরাদ্দ থাকে গ্রামের মানুষদের নিজস্ব যাত্রাপালার জন্য। কোনও পেশাদার যাত্রাদল নয়, বরং গ্রামের চাষি, মজুর, কারিগর, যুবক-তরুণরাই নিজেদের উদ্যোগে মঞ্চস্থ করেন যাত্রা। হাজারো ব্যস্ততার মধ্যেও তাঁরা আগেভাগেই সময় বের করে শুরু করেন রিহার্সাল। দিনের পর দিন অনুশীলনের মধ্য দিয়ে তৈরি হয় আস্ত একটি যাত্রাপালা। গ্রামবাসী সূর্যকান্ত মণ্ডল বলেন, “আমরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকি। তবে বছরে একবার আমরা যাত্রা করি গ্রামের এই পুজোয়।
advertisement
কয়েক মাস আগে থেকেই আমরা প্রস্তুতি নিতে শুরু করে দিই। যাত্রা শিল্প বাঁচিয়ে রাখার জন্যই আমাদের এই উদ্যোগ।” এবছর মঞ্চস্থ হওয়া যাত্রাপালার নাম ছিল ‘বুনো ওল, বাঘা তেঁতুল’। যাত্রা দেখতে গ্রামজুড়ে উপচে পড়ে ভিড়। শুধু গ্রামের মানুষই নন, দূর দূরান্ত থেকে আত্মীয়স্বজনরাও ভিড় জমিয়েছিলেন এই অভিনব যাত্রা উপভোগ করতে। আলো-আঁধারির মঞ্চে পরিচিত মুখগুলিকেই ভিন্ন রূপে দেখে আপ্লুত হন দর্শকরা। স্থানীয়দের দাবি, যাত্রাশিল্পকে টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যেই বহু বছর ধরে এই প্রথা চলে আসছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে উত্তর বেলগ্রামের মানুষ এই রীতিকে আগলে রেখেছেন।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, নতুন প্রজন্ম অর্থাৎ গ্রামের তরুণ যুবকরাও এখন যাত্রার প্রতি ক্রমশ বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছেন। অভিনয়, গান, সংলাপ সবকিছুতেই তাঁরা নিজেদের মতো করে যুক্ত হচ্ছেন। গ্রামবাসী অপূর্ব মণ্ডল বলেন, “বহু বছর ধরেই এই রীতি আমাদের গ্রামে রয়েছে। এখন নতুন প্রজন্ম এই যাত্রা করতে আগ্রহী হচ্ছে। এবারে যেমন আমি যাত্রা করলাম আমার সঙ্গে আমার ছেলেও যাত্রা করেছে।” সব মিলিয়ে বলা যায়, আধুনিকতার ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসা যাত্রাশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার এই গ্রামীণ উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। উত্তর বেলগ্রামের এই যাত্রাপ্রথা আজও প্রমাণ করে দেয়, লোকসংস্কৃতির শিকড় এখনও গ্রামবাংলার মাটিতে কতটা গভীরে প্রোথিত।





