জেলার অন্যান্য জায়গার তুলনায় খণ্ডঘোষ ও রায়না এলাকায় ব্যাপকভাবে গোবিন্দভোগ সহ সুগন্ধি ধানের চাষ হয়। ফলে রাষ্ট্রপুঞ্জের খাদ্য ও কৃষি সংগঠনের তরফে খাদ্য ও সংস্কৃতির ‘হেরিটেজ’ হিসেবে স্বীকৃতি মেলায় খুশি পূর্ব বর্ধমান জেলার রায়না ও খণ্ডঘোষ এলাকার চাষিরা।
advertisement
গত বুধবার সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, পশ্চিমবঙ্গের সুগন্ধি গোবিন্দভোগ, তুলাইপাঞ্জি এবং কনকচূড় চাল খাদ্য-সংস্কৃতির ‘হেরিটেজ’ তকমা পেয়েছে। সেই সঙ্গেই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে রাজ্য সরকারের আন্তর্বিভাগীয় প্রকল্প ‘মাটির সৃষ্টি’। এই খবরের পর পূর্ব বর্ধমানের চাষিরা খুশি হলেও তাঁদের একাংশের গলায় খানিক আক্ষেপের সুরও শোনা গিয়েছে।
তাঁদের অভিযোগ, চাপানে ভর্তুকি নেই, জল কিনে চাষ করতে হয়। এদিকে মূল্যবৃদ্ধির কারণে দিন দিন বাড়ছে শ্রমিকদের মজুরি। এর মধ্যে গত বছর বন্যার ফলে দু’বার বীজ রোপন করতে হয়েছে। ফলে চাষ ভাল হলেও লাভ খুবই কম থাকে। এক কৃষক বলেন, চাষি তো চাষ করে, লাভ পায় ব্যবসায়ীরা। তবে হেরিটেজ তকমা পাওয়ার পর যদি বাইরে রফতানির পরিমাণ আরও বাড়ে তাহলে চাষিরা একটু লাভের মুখ দেখবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ড্রিস্টিক্ট রাইস মিল অ্যাসোসিয়েশন ও বেঙ্গল রাইস মিল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল মালেক জানান, এই জেলা থেকে ২৫ হাজার মেট্রিক টন গোবিন্দভোগ চাল রফতানি হয়। আগেই এই চাল জিআই তকমা পেয়েছে। তবে এবার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা আরও বাড়বে ফলে কৃষকরা উৎসাহিত হবেন।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
জিআই তকমার পর এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি রাজ্যের কৃষি রফতানির মানচিত্রে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। বিশ্বজোড়া এই স্বীকৃতির সুফল কি প্রান্তিক কৃষকরা সরাসরি পাবেন নাকি নানা সমস্যার মধ্যেও কষ্ট করেই টিকিয়ে রাখতে হবে তাঁদের এই ঐতিহ্য? সেটাই এখন দেখার।





