১৮০০ টাকার সিলিন্ডার উঠেছে ২৫০০ টাকায়। তবুও গ্যাস মিলছে না গ্যাস। বাধ্য হয়ে খাবারের মেনুতে কাটছাট করছে হোটেল মালিকেরা। আগে যে হোটেলে ১৫ থেকে ১৬ পদের রান্না হত, সেখানে এখন ১০টির কম পদ রান্না হচ্ছে। রান্নার গ্যাসের জোগান না থাকলে হোটেল খোলা রাখা সম্ভব নয় বলে জানাচ্ছেন শহরের হোটেল মালিকরা। সমস্যায় পড়েছেন ফাস্ট ফুড ও রেস্তোরাঁ মালিকরাও। হোটেল, রেস্তোরাঁ ও ফাস্ট ফুড ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত কয়েক হাজার ব্যবসায়ী গ্যাসের জোগান না থাকায় জীবন ও জীবিকার সমস্যায় পড়ে গিয়েছেন। অনেকেই ব্যবসা বন্ধ করার কথা ভাবছেন।
advertisement
গ্যাস সার্ভিস সেন্টার কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, শুধু হাসপাতাল ও কলেজে বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যত্র এই সিলিন্ডার বিতরণ করতে বারণ করা হয়েছে। সেই কারণে কমার্শিয়াল সিলিন্ডার নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে।
আলিপুরদুয়ার গ্যাস সার্ভিস সেন্টারের কর্ণধার সুজিত সাহা বলেন, “শুধু কলেজ ও হাসপাতালগুলোতেই কমার্শিয়াল সিলিন্ডার সাপ্লাই দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। সেই কারণে সর্বত্র আমরা কমার্শিয়াল সিলিন্ডার দিতে পারছি না। যার জেরে কিছুটা সমস্যা তৈরি হয়েছে। কিন্তু আমাদের কিছু করার নেই। উপর মহলের নির্দেশ মতোই আমাদের চলতে হবে।’
আলিপুরদুয়ার শহরের থানা রোডে এক নামকরা হোটেল রয়েছে। দিনভর ক্রেতার ভিড় লেগেই থাকে। অথচ গ্যাসের জোগাড় না পেয়ে জনপ্রিয় এই হোটেল বন্ধ করে দেওয়ার কথা ভাবছেন মালিক দেবব্রত চট্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘প্রথমত, গ্যাসের দাম বেড়েছে। দ্বিতীয়ত, গ্যাস পাওয়াও যাচ্ছে না। গ্যাসের দাম বাড়ার ফলে খাবারের দাম বাড়ানোর মতো অবস্থায় নেই। দাম বাড়ালে ক্রেতারা অভিযোগ করছেন। আমাদের প্রতিদিন কমার্শিয়াল গ্যাসের দুটো সিলিন্ডার লাগে। আমরা সেই সিলিন্ডার পাচ্ছি না। ইতিমধ্যে ৮ পদ রান্না কমিয়ে দিয়েছি। এভাবে ব্যবসা চালাতে পারবো না। আমার পরিবার কীভাবে চলবে? আমাদের হোটেলের কর্মীদেরই বা কী হবে ভেবে কুল পাচ্ছি না। এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা খুব দরকার।’
শহরের বেশ নাম করা ধাবা কুক্কুস ধাবা। এই ধাবার মালিক অভিজিৎ দাস বলেন, ‘গোটা পরিস্থিতিটাই বিগড়ে গিয়েছে। গ্যাস পাচ্ছি না। পদ কমিয়ে দিয়েছি। কম পদ মানুষের পছন্দ হচ্ছে না। ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে। সরকার কী করতে চাইছে কিছুই বুঝতে পারছি না। এভাবে ধাবা চালাতে পারবো না।’
বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের জোগান কমে যাওয়ায় চারিদিকে ত্রাহি ত্রাহি রব উঠেছে। এই পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হয় সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন হাজার হাজার হোটেল, রেস্তোরাঁ ও ফাস্টফুড ব্যবসায়ীরা।
