চাষিদের বক্তব্য, গত বছর যেখানে ৫০ কেজি পেঁয়াজের দাম ছিল প্রায় ৭৫০ টাকা, সেখানে এবছর একই পরিমাণ পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকায়। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রায় অর্ধেক দামে নেমে এসেছে বাজারমূল্য। অনেকেই বলছেন, এত কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করলে পরিবহন খরচ ও আড়ত খরচ মেটানোর পর হাতে কার্যত কিছুই থাকছে না। এক চাষির কথায়, চলতি মরশুমে এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করতে খরচ হয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। জমি প্রস্তুত করা, বীজ, সার, কীটনাশক, সেচব্যবস্থা এবং শ্রমিকের মজুরি সব মিলিয়ে খরচের পরিমাণ বেড়েছে যথেষ্ট। কিন্তু বর্তমান বাজারদরে বিক্রি করলে সেই খরচও উঠছে না। চাষিদের আশঙ্কা, এভাবে দাম কম থাকলে আগামী দিনে পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ কমে যেতে পারে অনেকের।
advertisement
আরও পড়ুন: সুন্দরবনে চাষ হবে আরও সহজে! কৃষি দফতরের উদ্যোগে বিরাট কর্মযজ্ঞ, ৮৫ কৃষক পেলেন আধুনিক যন্ত্রপাতি
পেঁয়াজ চাষি প্রাণগোপাল বালা, গদাধর বাগেরা বলেন, “এবারে ফলন ভাল হলেও দাম কম অনেক। মাঠে সেভাবে ক্রেতার দেখায় পাচ্ছি না। আমাদের মনে হচ্ছে এবার প্রতি বিঘায় যেন ১০ হাজার টাকা করে লোকসান হবে।” কৃষিনির্ভর কালনা মহকুমায় পেঁয়াজ অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল হিসেবে পরিচিত। মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকায় শীতকালীন পেঁয়াজ চাষের উপর নির্ভর করে বহু পরিবার।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
কৃষি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, কালনা মহকুমার পাঁচটি ব্লক মিলিয়ে প্রায় ৪,৭৩০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন ‘সুখসাগর’ প্রজাতির পেঁয়াজের চাষ হয়। এই বিপুল পরিমাণ উৎপাদনের ফলে বাজারে সরবরাহ বেড়েছে বলেই অনেকের ধারণা, আর সেই কারণেই দামে পতন ঘটেছে। তবে চাষিদের দাবি, বাজার নিয়ন্ত্রণে যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ায় তাঁদেরই ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। বাজারদর নিম্নমুখী থাকায় এখন উদ্বেগ আর অনিশ্চয়তার মধ্যেই দিন কাটছে চাষিদের।





