এই পরিষেবার পেছনে রয়েছে শতবর্ষের এক রোমাঞ্চকর কাহিনি। ১৯২০ সালে কোচবিহারের রানি ইন্দিরা দেবী দার্জিলিংয়ের Windamere Hotel-এ এক অনুষ্ঠানে এসে হঠাৎই অস্বস্তি বোধ করেন। তখনকার ডিএইচআর ম্যানেজার আর.জি. এডিসের সহযোগিতায় তিনি পূর্ণিমার রাতে দার্জিলিং থেকে গোপনে টয়ট্রেনে চেপে সমতলে ফিরে যান। সেই ঘটনার অনুপ্রেরণাতেই ‘মহারানি গ্রেট এসকেপ’, ঐতিহ্য ও রোমাঞ্চের এক মেলবন্ধন।
advertisement
রুট ও অভিজ্ঞতা নিয়েও রয়েছে চমক। প্রথম পর্যায়েট্রেন চলবে কার্শিয়াং থেকে শুকনা পর্যন্ত; পরবর্তীতে দার্জিলিং থেকে কার্শিয়ং রুটে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। গুলমা চা-বাগানের কাছে ট্রেন থামলে পর্যটকেরা উপভোগ করতে পারবেন ‘মিডনাইট প্লাকিং’, রাতের চা-পাতা তোলা, সঙ্গে স্থানীয় খাবার ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। সীমিত আসনসংখ্যার এই যাত্রায় থাকবে মোট তিনটি কোচ, প্রতিটি কোচ ৩-৪ জনের গ্রুপে বুক করা যাবে। সব মিলিয়ে প্রায় ১৪–১৫ জন যাত্রী একসঙ্গে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।
বুকিং সংক্রান্ত নির্দেশিকাও স্পষ্ট। এই বিশেষ ট্রেন কেবল আগাম বুকিংয়ের ভিত্তিতেই চলবে; অন-স্পট টিকিটের সুযোগ নেই। পর্যটকদের Indian Railways-এর অধীন ডিএইচআরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে পূর্ণিমা তিথি বেছে টিকিট কাটতে হবে। পরিবার বা বন্ধুবান্ধব মিলে গ্রুপ বুকিং করা যাবে, আগেভাগে পরিকল্পনা করাই বুদ্ধিমানের। ডিএইচআরের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী বলেন, এই বিশেষ পরিষেবা চালু হলে পাহাড়ি পর্যটনে নতুন মাত্রা যোগ হবে। পূর্ণিমার আলোয় ঐতিহ্যবাহী রেলযাত্রা কেবল পর্যটকদের আনন্দই দেবে না, স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও জানান, ‘মহারানি গ্রেট এসকেপ’ শুধুমাত্র একটি ট্রেন পরিষেবা নয়, এটি দার্জিলিংয়ের ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের কাছে জীবন্ত করে তোলার উদ্যোগ। সীমিত আসন ও কিউরেটেড অভিজ্ঞতার মাধ্যমে পর্যটকেরা একান্ত ও স্মরণীয় ভ্রমণের স্বাদ পাবেন, যা ভবিষ্যতে ডিএইচআরের জন্য বড় সাফল্য বয়ে আনবে। সব মিলিয়ে, পূর্ণিমার আলোয় ঐতিহ্য, ইতিহাস আর পাহাড়ি রোমাঞ্চকে এক সুতোয় গেঁথে ‘মহারানি গ্রেট এসকেপ’ দার্জিলিংয়ের পর্যটনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে। সীমিত আসনের এই বিশেষ যাত্রা নিঃসন্দেহে পাহাড়প্রেমীদের জন্য হয়ে উঠবে এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।





