এ দিন শিলিগুড়ির কাছে গোঁসাইপুরে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কাউন্সিলের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু৷ যদিও এই অনুষ্ঠানের আয়োজনকে কেন্দ্র করে প্রথম থেকেই প্রশাসনিক অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তারা৷ তাঁদের মূল অভিযোগ, প্রথমে এই অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল শিলিগুড়ির বিধাননগরে৷ কিন্তু ছোট জায়গার অজুহাতে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় বিধাননগর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে বাগডোগরা বিমানবন্দরের কাছে গোঁসাইপুরে৷ শুধু তাই নয়, অনুষ্ঠানে মঞ্চ সাজানো থেকে শুরু করে মঞ্চ ঠিক মোত না সাজানো, শৌচালয়ের অব্যবস্থার মতো অভিযোগও তোলেন তাঁরা৷ এ দিন রাষ্ট্রপতি অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছলে তাঁর সামনেই এই সমস্ত অভিযোগ তুলে সরব হন অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তারা৷
advertisement
আরও অভিযোগ, রাষ্ট্রপতি হাজির থাকলেও এ দিন অনুষ্ঠান স্থলে সেভাবে প্রশাসনিক কর্তাদের দেখা যায়নি৷ কোনও মন্ত্রী নয়, রাষ্ট্রপতিকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানাতে হাজির ছিলেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব৷
গোঁসাইপুরের অনুষ্ঠান স্থল থেকেই আচমকা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বিধাননগরে চলে যান৷ প্রথমে সেখানেই অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল৷ সেখানে পৌঁছেই রাষ্ট্রপতি প্রশাসনের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন৷ দ্রৌপদী মুর্মু বলেন, ‘আজ আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কাউন্সিলের সম্মেলন ছিল৷ এখানে এসে আমি দেখলাম এত বড় মাঠ ছিল৷ এখানেই অনুষ্ঠান হতে পারত৷ জানি না প্রশাসনের মনে কী হল৷ আমি তো সহজেই এখানে এসেছি৷ কিন্তু প্রশাসন নাকি বলেছে এখানে ভিড় হয়ে যাবে৷ কিন্তু আমি তো দেখছি এখানে ৫ লক্ষ লোকেরও জমায়েত হতে পারবে৷ এখানকার প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্তরা তো খুবই বুদ্ধিমান৷ জানি না কেন এখানে অনুষ্ঠান করতে দিল না৷ যেখানে অনুষ্ঠান করা হচ্ছে সেখানে সাঁওতালরা সবাই যেতে পারবেন না৷ আমার মনে হল, এখানকার ভাইবোনরা সবাই অনুষ্ঠানে যেতে পারবেন না৷ তাই ভাবলাম আমিই আপনাদের কাছে আসি৷ আপানারা কেমন করে থাকেন, দেখে আসি৷’
এখানেই না থেমে রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ‘হয়তো প্রশাসন ভেবেছিল ওখানে কেউ যেতে পারবেন না৷ তাই রাষ্ট্রপতি এসে ফাঁকা জায়গায় অনুষ্ঠান করেই ফিরে যাবেন৷ সবকিছু দেখে আমি খুবই দুঃখিত৷ জানি না প্রশাসনের মনে কী ছিল৷ সাধারণত রীতি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এলে মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যের মন্ত্রীদের উপস্থিত থাকার কথা৷ কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী ম্যাডাম তো আসেননি৷ আর রাজ্যপাল তো বদলই হয়ে গিয়েছেন৷ কিন্তু আগে থেকে অনুষ্ঠান ঠিক ছিল বলে আমি চলে আসলাম৷ দু মিনিটের মধ্যে আপনারা হাজারে হাজারে মানুষ এখানে এসেছেন তার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ৷ সবাই মিলেমিশে থাকুন৷ এটা সবার দেশ৷ আমাদের পূর্বপুরুষরা এটাই শিখিয়েছেন৷’
এর পরই সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়েও অভিমানের সুর শোনা যায় রাষ্ট্রপতির গলায়৷ দ্রৌপদী মুর্মু বলেন, ‘প্রশাসন বলেছিল এখানে নাকি খুব ঘিঞ্জি এলাকা৷ আমি ভাবলাম দেখেই আসি কতটা ঘিঞ্জি জায়গা৷ তাহলে রাজ্য সরকারকে বলে আরও জায়গার ব্যবস্থা করব৷ কিন্তু এখানে তো এমনিতেই এত বড় জায়গা রয়েছে৷ জানি না, আমি তো বাংলারও মেয়ে৷ কিন্তু আমাকে তো এখানে আসতেই দেন না৷ মমতাদিদি আমারও ছোট বোন৷ জানি না, হয়তো আমার উপরে কোনও কারণে রাগ করেছেন৷ যাই হোক, আমার কোনও অভিযোগ নেই৷ উনিও ভাল থাকুক৷ আপনারাও ভাল থাকবেন৷’
যদিও রাষ্ট্রপতির অভিযোগকে মানতে চাননি রাজ্যের মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা৷ তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর আমলেই রাজ্যে আদিবাসী সমাজের সবথেকে বেশি উন্নতি হয়েছে৷ অলচিকি ভাষায় আমরা পড়াশোনা করতে পারছি৷ আমি রাষ্ট্রপতিকে বলব রাজ্যের দাবি মেনে আপনি সারি আর সারনা ধর্মকে মান্যতা দেওয়ার ব্যবস্থা করুন৷ আর গৌতম দেব তো প্রশাসনিক পদেই রয়েছেন৷ তাহলে উনি রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে গেলে অসুবিধা কোথায়?
