ঝাড়খণ্ডের ছোট নাগপুর মালভূমিতে পালামৌ জেলার উচ্চগিরি শৃঙ্গ থেকে উৎপত্তি হয়ে ঝাড়খন্ড ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত দামোদর নদ। পূর্ব বর্ধমান মূলত কৃষি প্রধান জেলা। তাই এর অনেক অংশই নির্ভর করে দামোদর নদের উপর। কিন্তু ধীরে ধীরে পরিবর্তন হচ্ছে আনুমানিক ৫৯২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এই নদের গতিপথ।
advertisement
বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান নারায়ণ চন্দ্র জানা বলেন, ড্যাম ও রিজার্ভার তৈরি হওয়ার আগে দামোদর নদ তার স্বাভাবিক গতিপথে প্রবাহিত হত এবং প্রচুর বন্যা হওয়ার কারণে একে ‘দুঃখের নদ’ বলা হত। কৃষি জমিতে জল সরবরাহ করতে ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ করতে পরবর্তীতে পাঁচটি রিজার্ভার ও ড্যাম তৈরি হওয়ার পর এটি কন্ট্রোল রিভার সিস্টেমে পরিণত হয়েছে, বিশেষ করে নিম্ন দামোদরটি। ফলে মানবজীবনে কৃষিকাজ, বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ অনেকটা সম্ভব হয়েছে।
কিন্তু বর্তমান গবেষকরা মনে করছেন, ড্যাম ও রিজার্ভার তৈরি হওয়ার ফলে নদীর প্রাকৃতিক রূপ পরিবর্তন হচ্ছে এবং গতি স্বাভাবিক না হওয়ায় প্রচুর পরিমাণে পলি জমে নদী খাত উপরে উঠে যাচ্ছে। পাশাপাশি নদী থেকে অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের ফলে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নিম্ন দামোদর অববাহিকা এবং বর্ষায় তৈরি হচ্ছে বন্যা পরিস্থিতি। এই ভাবে দামোদর নদের ধীরে ধীরে গতিপথ পরিবর্তন হতে থাকলে একদিকে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে দামোদর তীরবর্তী এলাকা তেমনই ক্ষতিগ্রস্ত হবে দামোদরের উপর তৈরি হওয়া কৃষক সেতু, এমনই আশঙ্কা করছেন গবেষকরা।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
এই বিপর্যয় রুখতে প্রয়োজন পরিকল্পিত পদক্ষেপের। অন্যথায়, দামোদরের এই পরিবর্তনশীল রূপ ভবিষ্যতে কেবল নিম্ন অববাহিকার জনজীবনকেই বিপর্যস্ত করবে না, বরং বর্ধমানের অন্যতম লাইফলাইন ‘কৃষক সেতু’র অস্তিত্বকেও সঙ্কটের মুখে ঠেলে দেবে।





