কোন প্রসঙ্গে ওঠে এই কথা? এবার ভোটে কংগ্রেসের সঙ্গে কি জোট করছে বামফ্রন্ট? সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, তিনি তিনটি ভাগে তার উত্তর দেন৷ প্রথমেই আসে বাম শরিকদের সঙ্গে আসন সমঝোতার কথা৷
আরও পড়ুন:’CPIM-এর কাছে গরু, কয়লা, সোনা পাচারের কালো টাকা নেই!’ চন্দননগরে কড়া ভাষায় আক্রমণ সেলিমের
advertisement
মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘‘প্রথমে সিপিআইএম তারপরে বামফ্রন্ট, তারপর বামফ্রন্টের বাইরের দলগুলির সঙ্গে আমরা আলোচনা করেছি৷ আমরা সিপিআইএমএল-এর সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে৷ তাঁরা বামফ্রন্টে থাকবেন না কিন্তু, বামফ্রন্টকে সমর্থন করবেন৷ আমরা একসাথে বিজেপি তৃণমূলকে পরাস্ত করার জন্য লড়ব৷ আসন সমঝোতা সিদ্ধান্ত একদিন বসলেই ঠিক হয়ে যাবে৷ বাম শরিকদের সঙ্গে আগে বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে, তারপর বাইরে যাঁরা আছে তাদের সঙ্গে কথা বলব৷’’
এরপরে সেলিমের মন্তব্যে আইএসএফ-এর সঙ্গে জোট গড়ার সম্ভাবনায় সবুজ সঙ্কেত দিয়ে দেন সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক৷ বলেন, ‘‘এরপর বামের বাইরে যে অংশ আছে৷ ইতিমধ্যেই আইএসএফ-এর সঙ্গে আমাদের কথা হয় গেছে৷ তাঁরাও নীতিগত ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বামেদের সঙ্গেই লড়বেন তাঁরা৷ তার সঙ্গে এটাও আমরা বলেছি, আর কে আসবে না আসবে এটা কোনও শর্ত থাকবে না৷ শুধুমাত্র বিজেপি-তৃণমূল বিরোধী অবস্থান থেকেই জোট হবে৷ ’’
সবশেষে আসে কংগ্রেসের কথা৷ সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদকের কথায়, ‘‘কংগ্রেস দলের দিক থেকে কোনও কিছু বলা হয়নি৷ অনেক সময় দেখেছি, উপ নির্বাচনের সময় আমরা একদম শেষ মুহূর্তে এসে যখন বামফ্রন্ট প্রায় প্রার্থীর নাম ঘোষণার পর্যায়ে রয়েছে, তখন বলে জোট করব৷ যখন আমরা বলেছি ফেব্রুয়ারি মাস থেকে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে, এবছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে যদি না বলে, তাহলে কবে বলবে? ওই জন্যে আমরা ঠিক করেছিলাম ৩১ জানুয়ারির মধ্যে জানাব৷’’
মাধ্যমিকের দ্বিতীয় দিনে বাতিল পাঁচ জনের পরীক্ষা! সাসপেন্ড বেশ ক’জন শিক্ষক! কী ঘটেছিল?
এরপরেই বিস্ফোরক দাবি করেন সেলিম৷ দাবি করেন, তৃণমূলের সাথে নাকি আসন সমঝোতার পথে হাঁটতে চলেছে প্রদেশ কংগ্রেস৷ সম্প্রতি একটি আসন সংখ্যাও তৃণমূল নেতৃত্বকে পাঠিয়েছেন তাঁরা৷ সেলিমের দাবি, ‘‘গত কয়েকদিন থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, জানলাম কংগ্রেসের তরফ থেকে কিছু ফিগার পাঠানো হয়েছে তৃণমূলের কাছে৷ কয়েকটা আসন চেয়ে যদি কোনও সমঝোতার জায়গায় আসা যায়৷ তোমাকে রাজনীতিটা স্পষ্ট করতে হবে৷ বামেদের সঙ্গে সমঝোতা করতে হলে রাজনৈতিক অবস্থানটা স্পষ্ট করতে হবে৷ অবস্থানটা হবে তৃণমূল-বিজেপি বিরোধী, সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী এবং খেটে খাওয়া মানুষের পক্ষে৷ এই অবস্থান যদি না থাকে তাহলে সমঝোতা হবে না৷’’
২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনের সময় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ছিলেন অধীররঞ্জন চৌধুরী৷ সনিয়া-রাহুলের সঙ্গে মমতার সম্পর্ক মোটামুটি সুবিদিত৷ কেন্দ্রীয়স্তরে লোকসভার আগে ইন্ডিয়া জোটেও পাশাপাশি মঞ্চ ভাগ করে নিয়েছিলেন তাঁরা৷ কিন্তু, তৎকালীন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরীর ছিল তীব্র মমতা-বিরোধী অবস্থান৷ সেই যৌথ তৃণমূল-বিজেপি বিরোধিতার প্রেক্ষিতেই হয়েছিল একুশের বাম-কংগ্রেস জোট৷
তারপরে চব্বিশের সেপ্টেম্বরে বদল এসেছে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পদে৷ সরেছেন অধীর, এসেছেন, শুভঙ্কর সরকার৷ এখন মহম্মদ সেলিমের দাবি সত্যি প্রমাণিত হলে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটের রাজনীতির নতুন সমীকরণ তৈরি হবে বঙ্গে৷
