গোপন সূত্রে খবর পেয়ে দ্রুত প্রতিক্রিয়া ও নিরবচ্ছিন্ন সতর্কতার পরিচয় দিয়ে ইন্ডিয়ান কোস্টগার্ড স্টেশন ফ্রেজারগঞ্জ অভিযান শুরু করে। এরপর বঙ্গোপসাগরে একটি পরিত্যক্ত ভারতীয় মাছ ধরার নৌকা আটক করা হয়।নৌকাটি সুপারি পাচারের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করে কোস্টগার্ড। এই অভিযানে প্রায় ২,৬০০ কেজি সুপারি উদ্ধার করা হয়। আটক নৌকাটি নিরাপদে ফ্রেজারগঞ্জে নিয়ে এসে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের জন্য উপকূলীয় পুলিশের হাতে তুলে দেয় কোস্টগার্ড। বকখালি থেকে মাত্র ৩ নটিক্যাল মাইল দূরে লুথিয়ান দ্বীপ সংলগ্ন এলাকায় এই ট্রলারটিকে বাজেয়াপ্ত করা হয়।
advertisement
ট্রলারটিকে আটক করা সম্ভব হলেও, রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে অন্য একটি ট্রলারে চড়ে চম্পট দেয় পাচারকারীরা। কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গিয়েছে, রাত গভীর হওয়ার পর লুথিয়ান দ্বীপের কাছে সন্দেহজনকভাবে একটি ট্রলারকে ঘোরাফেরা করতে দেখেন টহলরত জওয়ানরা। কোস্ট গার্ডের হোভারক্রাফট এগিয়ে যেতেই আটক ট্রলার থেকে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করে দুষ্কৃতীরা। শুরু হয় মাঝসমুদ্রে রুদ্ধশ্বাস ধাওয়া। ধাওয়া করার সময় দেখা যায়, পাচারকারীরা আটক হওয়া ট্রলার ছেড়ে দিয়ে অন্য একটি দ্রুতগামী ট্রলারে চড়ে গভীর সমুদ্রের দিকে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে পরিত্যক্ত অবস্থায় ‘এফবি লক্ষ্মীনারায়ণ’ নামের ভারতীয় ট্রলারটিকে কব্জা করে ফ্রেজারগঞ্জ ঘাঁটির কোস্ট গার্ড সদস্যরা। বিপুল পরিমাণ বাজেয়াপ্ত সুপারির বাজারমূল্য কয়েক লক্ষ টাকা বলে অনুমান করা হচ্ছে। আটক হওয়া ট্রলারটি ভারতের হলেও, সেটিতে করে সুপারি পাচারের নেপথ্যে কোনো আন্তর্জাতিক চক্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। পাচারকারীরা কেন পালানোর জন্য অন্য একটি ট্রলার মজুত রেখেছিল, তা গোয়েন্দাদের ভাবিয়ে তুলছে। এই ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে প্রশাসন।
