এদিনের সভামঞ্চ থেকে মমতা সিপিএম বিজেপিকে একযোগে আক্রমণ করে বলেন, ‘‘আগে যেটা সিপিএম করতো, এখন বিজেপি করে। বেছে বেছে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। যেন উকুন বাদ দিচ্ছে।
আমি সুপ্রিম কোর্টে গেছিলাম, তাই ২২ লক্ষ নাম তোলা গেছে। লোকালি ট্রাইব্যুনালে দরখাস্ত করুন। আইনি সহায়তা আমরা দেব। সুপ্রিম কোর্ট ভাল রায় দিয়েছে। বাইরের নাম ঢোকাচ্ছিল। পদ্মফুলের বস্তায়। সুপ্রিম কোর্ট বলে দিয়েছে হবে না। ’’
advertisement
আরও পড়ুন: ‘আগে যেটা সিপিএম করত, এখন বিজেপি করে,’ একযোগে দুই দলকে আক্রমণ! নানুরে মমতার মুখে হঠাৎ কেন সুচপুর হত্যাকাণ্ড?
গত সোমবার নির্বাচন কমিশনের দফতর থেকে বেরিয়ে ভয়ঙ্কর অভিযোগ আনেন অভিষেক৷ দাবি করেন, ‘‘আমরা বিভিন্ন জেলা থেকে নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদন পাচ্ছি যে, বিপুল সংখ্যক ‘ফর্ম ৬’ (নতুন ভোটারদের আবেদনপত্র) অত্যন্ত সন্দেহজনকভাবে জমা দেওয়া হচ্ছে। এগুলি নিছকই সাধারণ বা রুটিনমাফিক সংযোজন নয়। গুরুতর উদ্বেগের বিষয় হল, এই তালিকাভুক্তির অনেকের সঙ্গেই এমন সব ব্যক্তির যোগসূত্র থাকতে পারে, যাদের বাংলার সঙ্গে বাস্তবে কোনও সম্পর্কই নেই—এমন মানুষ যারা এখানে বসবাস করেন না, এখানে কাজ করেন না এবং এই রাজ্যের কোনও স্বার্থের সঙ্গেই যাদের কোনও সংশ্লিষ্টতা নেই।’’
অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, ‘এই ভিডিওটি সেই উদ্বেগকেই আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে যে, হাজার হাজার এমন ফর্ম প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে এবং স্তূপ করে রাখা হচ্ছে৷’’
এদিন নানুরের মঞ্চ থেকে মমতা বলেন, ‘‘আজ আমি খুশি। সুপ্রিম কোর্ট ভাল রায় দিয়েছে। পদ্ম ফুলের বস্তা দিয়ে ফর্ম ৬ জমা করে বাইরে নাম ঢোকাচ্ছিল। সুপ্রিম কোর্ট বলে দিয়েছে হবে না।’’
সোমবার সুপ্রিম কোর্টেও ওঠে ফর্ম ৬ প্রসঙ্গ৷ বুধবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে এসআইআর মামলার শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করে বলেন, ”চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ইতিমধ্যেই প্রকাশ হয়েছে। বিচারাধীন থাকা নামের নিষ্পত্তির কাজ চলছে। সেই সময় কমিশনে কীভাবে বান্ডিল বান্ডিল ফর্ম ৬ জমা পড়ছে।”
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “দিস্তা দিস্তা ফর্ম ৬ জমা পড়ে রয়েছে সিইও অফিসে। আমাদের কাছে ভিডিও আছে।” আইনজীবী কপিল সিব্বল প্রশ্ন তোলেন, “এত নথি যাচাই করা সম্ভব কীভাবে?” যার উত্তরে কমিশন জানায়, “আমরা শুধু এটুকুই বলতে চাই নাম তুলতে ফর্ম জমা করা অধিকার।” প্রসঙ্গে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য, “একজন ব্যক্তি ৩০ হাজার ফর্ম-৬ জমা করছেন?” এই প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “এরকম হতে পারে। আপনাদের আপত্তি থাকলে সেটা জানান সেখানে।”
পালটা যুক্তি দিয়ে নির্বাচন কমিশন জানায় আইনগত অধিকারে বাধা দেওয়া যায় না। ফর্ম ৬ নিয়ে কমিশনের আইনজীবী বলেন, “আইনের অনুচ্ছেদ ২৩ অনুযায়ী, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত নাম অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। আজ কেউ যদি ১৮ বছরে পা দেন, তাঁরও (ভোটার তালিকায় নাম তোলার) অধিকার আছে। কারও আইনগত অধিকার থাকলে, তা কেউ বাধা দিতে পারে। তবে এই বিষয়ে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে রাজ্যকে আবেদনের কথা বলেন প্রধান বিচারপতি। দীর্ঘ শুনানি শেষে এদিনের মতো এসআইআর মামলার শুনানি শেষ হয়েছে। আগামী ৬ এপ্রিল ফের এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হবে।
