অজয়পুর হাইস্কুলের সরস্বতীতলায় এবছর প্রতিমার পাশাপাশি তৈরি করা হয়েছে আটটি পুতুল। সেই পুতুলগুলির মাধ্যমেই নিজেদের ভবিষ্যতের কথা বলেছে ছাত্রছাত্রীরা। কোথাও দেখা যাচ্ছে অল্প বয়সে বিয়ের কারণে স্কুলছুট হয়ে যেতে হচ্ছে, কোথাও সংসারের চাপে বইখাতা ছেড়ে বাসন মাজতে হচ্ছে, আবার কোথাও অপুষ্ট শরীরে মাতৃত্বের বোঝা বইতে হচ্ছে এক কিশোরীকে। পুতুলগুলির সঙ্গে নানা পোস্টার ও বার্তার মাধ্যমে সরস্বতীতলা জুড়ে ফুটে উঠেছে বাল্যবিবাহের ভয়াবহ পরিণতি।
advertisement
শুধু এবছর নয়, প্রতিবছরই সরস্বতীপুজোয় সামাজিক বার্তা দেওয়াকে কর্তব্য বলেই মনে করেন স্কুলের শিক্ষক দীনবন্ধু বিশ্বাস। জীবন বিজ্ঞানের এই শিক্ষক জানান, “এবার আমাদের সরস্বতী পুজোর থিম ‘বাল্যবিবাহ রোধ’। আমরা প্রত্যেক বছরই কোন না কোন সামাজিক বার্তা তুলে ধরি, ছাত্রছাত্রীদের সচেতন করতে এবং এলাকার মানুষকে ভাবাতে। যে এলাকায় আমি শিক্ষকতা করি, সেখানে এই সমস্যা চোখে পড়ে। আমার স্কুলে অতীতেও এমন ঘটনা ঘটেছে, যেখানে বিয়ের কারণে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে হয়েছে ছাত্রীদের। ছোটবেলায় বিয়ে মানেই একটি শিশুর সব সম্ভাবনার ধ্বংস। অপরিণত শরীর মন নিয়ে সংসারের চাপ নিতে হয়, অপুষ্ট সন্তানের জন্ম হয়। মা-ই যেহেতু প্রথম শিক্ষক, তাই মা অশিক্ষিত থেকে গেলে তার প্রভাব পড়ে পরবর্তী প্রজন্মে।”
তিনি আরও বলেন, বাল্যবিবাহ এমন একটি কুপ্রথা যা সহজে বা দ্রুত দূর হয় না। সরকার, প্রশাসন ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে শহরের বাইরে, প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেই এই ধরনের ঘটনার হার বেশি। সেখানেই নিয়মিত প্রচার ও সচেতনতা চালানো জরুরি।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
উল্লেখ্য, জেলাজুড়ে বাল্যবিবাহের ভয়াবহতা বোঝাতে গত বছর ২৬ মার্চ ‘নারী নক্ষত্র’ নামে একটি পুতুল নাটক একইসঙ্গে জেলার ৭৩৪টি স্কুলে মঞ্চস্থ করে ছাত্রছাত্রীরা। সেই ধারাবাহিকতাতেই এবছর অজয়পুর হাইস্কুল সরস্বতীপুজোর মাধ্যমে এই সামাজিক বার্তাকে আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরল।





