রাঢ়বঙ্গের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সর্বমঙ্গলা।১৭০২ সালে বর্ধমানের মহারাজা কীর্তিচাঁদ স্বপ্নাদেশ পেয়ে দেবীকে উদ্ধার করে প্রতিষ্ঠা করেন এই মন্দিরে। রাঢ়বঙ্গের অন্যতম জাগ্রত শক্তিপীঠ এটি।বাংলা বর্ষবরণ হোক কিংবা ইংরেজি নববর্ষ- বর্ধমানবাসীর প্রায় প্রতিটি শুভ কাজের সূচনা হয় দেবী সর্বমঙ্গলার চরণে পুজো দিয়ে। মহালয়ার পর প্রতিপদে বর্ধমানের রাজাদের ঐতিহ্যবাহী ‘কৃষ্ণসায়র’ জলাশয় থেকে ঘটে জল ভরে আনা হয় মন্দিরে। এরপর অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে তা স্থাপন করা হয় সর্বমঙ্গলা মন্দিরে। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই ঘটস্থাপনের সঙ্গে সঙ্গে বর্ধমানে সূচনা হয় দুর্গাপুজোর।
advertisement
আরও পড়ুন : ভরসা বাহন বাইক, হাড়ভাঙা পরিশ্রমে বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দিয়ে সংসারের হাল ধরেছেন সোনারপুরের তরুণী
ইতিহাসবিদের সর্বজিত যশ বলেন, সর্বমঙ্গলা মন্দিরের দুর্গাপুজো ঘিরে যুগ যুগ ধরে চলে আসা এক বিশেষ ঐতিহ্য ছিল মহাষ্টমীর সন্ধিপুজোয় কামান-গর্জন। কামান ফাটানোর আওয়াজ শুনে হত বর্ধমানের অন্যান্য জায়গায় সন্ধি পুজোর বলিদান। কিন্তু সেই আভিজাত্য আর গর্বের ইতিহাসে এক কালিমালিপ্ত অধ্যায় যোগ হয় ১৯৯৭ সালের দুর্গাপুজোয়, ঘটে যায় বিপত্তি। কামান আচমকাই ফেটে যায়।ঘটনার ভয়াবহতা এতই ছিল যে কামানের ভগ্নাংশ ছিটকে গিয়েছিল দেড় থেকে দু কিলোমিটার দূর পর্যন্ত। দুর্গাপুজোর আনন্দ পাল্টে যায় কান্নার রোলে। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সেই বছরের পর থেকেই চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হয় রাজ আমলের এই কামান চালানোর প্রথা। রাজা আমলের স্মৃতি ধরে রাখতে মন্দির প্রাঙ্গণে বাইরে যে স্থানে কামানটি ফাটানো হত সেই স্থানে তৈরি করা হয় একটি প্রতীকী কামান।
কালের নিয়মে সেই ভয়াবহ স্মৃতি ফিকে হয়ে এলেও, রাজ আমলের ঐতিহ্য মুছে যেতে দেয়নি বর্ধমান।আজও সেই কামানের সামনে দাঁড়ালে প্রবীণদের চোখে ভেসে ওঠে ১৯৯৭ সালের সেই অন্ধকার দিন।





