পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর ১ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের বত্রিশবিঘা গ্রাম, এই গ্রামের ১৩৮ নং বুথের ভোটার ও আদি বাসিন্দা হলেন শেখ ইব্রাহিম। বর্তমানে জীর্ণ শরীর, ঝাপসা চোখ মনের মধ্যে গেঁথে রয়েছে একরাশ অভিজ্ঞতা। দেখেছেন পরাধীন ভারতের সংগ্রাম,যোগ দিয়েছেন ভারত ছাড়ো আন্দোলনে,চাক্ষুষ করেছেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে হাওড়াভ ব্রিজের নির্মাণ। সেই ১০৪ বছরের শেখ ইব্রাহিমের নামই ছিল ভারতের নির্বাচন কমিশনের তালিকায় ‘বিচারাধীন’ বা ‘আন্ডার এ্যডজুডিকেশন’।
advertisement
তাঁর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শেখ ইব্রাহিমের পরাধীন ভারতে জন্ম। ১৩২৯ বঙ্গাব্দের মাঘ মাসে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তিনি। স্বাধীন ভারতের প্রথম নির্বাচন থেকে শুরু করে গত লোকসভা ভোট প্রতিবারই নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন তিনি। অথচ, জীবনের শেষপ্রান্তে এসে নিজের নাগরিকত্বের প্রমাণের লড়াইয়ে সামিল হতে হচ্ছে তাকে।এসআইআর তালিকায় ‘বিচারাধীন’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছিল ১০৪ বছর বয়সী শেখ ইব্রাহিমকে। তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্যের পরিণতিও একই হয়েছিল।
শেখ ইব্রাহিমের দাবি, বাংলার ১৩২৯ সালের মাঘ মাসে তাঁর জন্ম। স্ত্রী আসেমা বেগম ১৮ বছর আগে প্রয়াত হয়েছেন। ইব্রাহিমের ৬ ছেলে ও ২ মেয়ে। বাংলায় এসআইআর পর্ব শুরু হওয়ার পর ২৯ জানুয়ারি ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির’ কথা উল্লেখ করে প্রবীণ শেখ ইব্রাহিমকে সশরীরে ব্লকের বিডিও অফিসে শুনানিতে হাজির হওয়ার নোটিশ পাঠানো হয়।
ওই নোটিশ বৃদ্ধর বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছিলেন ১৩৮ নম্বর বুথের বিএলও। তা নিয়ে তোলপাড় পড়তেই কমিশনের প্রতিনিধিরা ১০৪ বছর বয়সী শেখ ইব্রাহিমের বাড়িতে গিয়ে শুনানি সারেন। তাঁরা বৃদ্ধের প্রয়োজনীয় নথিপত্রও যাচাই করে যান। এত কিছুর পরেও সদ্য প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় শেখ ইব্রাহিমের নাম ‘বিচারাধীন’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
অবশেষে ‘বিচারাধীন’ তকমা ঘুচলো শেখ ইব্রাহিমের। ২৪ শে মার্চ প্রকাশিত SIR-এর প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় নাম আসে তার অর্থাৎ তিনি ভোট দিতে পারবেন। শুধু তারই নয় তার পরিবারের যে সদস্যদের নাম বিচারাধীন তালিকায় ছিল তাদের নাম এসেছে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা। শেখ ইব্রাহিমের ছেলে শেখ রাইহানউদ্দিন বলেন, ফার্স্ট সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে আমাদের বৈধ ভোটার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা ভোট দিতে পারব,আমরা খুব খুশি।






