বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত এই ত্রিদেশীয় সিরিজে ভারত, পাকিস্তান ও আয়োজক বাংলাদেশ অংশ নেয়। সে সময় বাংলাদেশ ছিল উদীয়মান সহযোগী দল। ভারত ও পাকিস্তান দু’দলই বাংলাদেশকে হারিয়ে সহজেই ফাইনাল পর্বে পৌঁছে যায়। বেস্ট অফ থ্রি ফাইনালে প্রথম ম্যাচে ভারত পাকিস্তানকে হারিয়ে এগিয়ে যায়। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তান দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজে সমতা ফেরায়। ফলে ১৯৯৮ সালের ১৮ জানুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিত তৃতীয় ও শেষ ফাইনালটি হয়ে ওঠে চূড়ান্ত উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু।
advertisement
এই ম্যাচে টস জিতে ভারত প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। পাকিস্তানের ওপেনার সঈদ আনোয়ার ও ইজাজ আহমেদ শুরু থেকেই ভারতীয় বোলারদের ওপর আক্রমণ চালান। ভালো ব্যাটিং উইকেটে দু’জনেই শতরান করেন। সঈদ আনোয়ার ১৩২ বলে ১৪০ রান করেন, আর ইজাজ আহমেদ করেন ১১২ বলে ১১৭ রান। তাদের দাপুটে ব্যাটিংয়ে পাকিস্তান ৪৮ ওভারে ৫ উইকেটে ৩১৪ রান তোলে, যা তখন প্রায় অসম্ভব লক্ষ্য হিসেবেই ধরা হচ্ছিল।
৩১৫ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতের ওপেনার সচিন তেন্ডুলকর ও সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ব্যাট করতে শুরু করেন। সচিন দ্রুত ২৬ বলে ৪১ রান করে আউট হলেও সৌরভ এক প্রান্ত আগলে রাখেন। তিনি নিজের কেরিয়ারের সেরা ইনিংসগুলোর একটি খেলেন—১৩৮ বলে ১২৪ রান। তিন নম্বরে নেমে রবিন সিংও অসাধারণ ব্যাটিং করে ৮২ রান করেন। এই তিনজন মিলে ভারতের রান তাড়ার শক্ত ভিত গড়ে দেন।
তবে ম্যাচ তখনও শেষ হয়নি। পাকিস্তান বোলাররা হঠাৎ করেই কয়েকটি দ্রুত উইকেট তুলে নেয়। অধিনায়ক মহম্মদ আজহারউদ্দিন, অজয় জাদেজা ও নভজ্যোৎ সিং সিধু দ্রুত আউট হয়ে গেলে ম্যাচের চাপ বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে তরুণ হৃষিকেশ কানিতকর ঠান্ডা মাথায় খেলতে থাকেন। নয়ন মুঙ্গিয়ার সঙ্গে জুটি গড়ে তিনি দলকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে যান। মুঙ্গিয়া রানআউট হলেও কানিতকর হাল ছাড়েননি।
আরও পড়ুনঃ ৬ মাস ভারতের হয়ে খেলতে যাবে না কোহলি-রোহিতকে! কারণটা কী? জেনে নিন বিস্তারিত
শেষ ওভারে ভারতের প্রয়োজন ছিল ১০ রান। সাকলিন মুস্তাকের ওভারে জাভাগাল শ্রীনাথ গুরুত্বপূর্ণভাবে স্ট্রাইক কানিতকরের হাতে তুলে দেন। এরপর শেষের আগের বলে কানিতকর একটি দারুণ চার মারেন এবং ভারতকে অবিস্মরণীয় জয় এনে দেন। এই ম্যাচটি আজও ভারত–পাকিস্তান ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ও নাটকীয় ফাইনাল হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে।
