পূর্ব বর্ধমান জেলার রায়নার পলাশন অঞ্চলের বাশা গ্রামের বাসিন্দা সৌমেনে চট্টোপাধ্যায়। ছোট থেকেই স্বপ্ন ছিল ক্রিকেটার হওয়ার।বাবা চাষবাস করেন ও পুজো করেন, মা গৃহবধূ কোন রকমের চলে সংসার,বহুদিন কেটেছে না খেয়ে কিন্তু আর্থিক সীমাবদ্ধতা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি তার স্বপ্ন পূরণের পথে। তার এই স্বপ্নপূরণে সর্বতোভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন তার পরিবার। তাই প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে গিয়েও নিজের কঠিন পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে জায়গা করে নিয়েছেন রাজস্থান রয়েলসে। বাশা গ্রামে ছোট থেকে বড় হয়ে ওঠা তার।
advertisement
ছোটবেলায় গ্রামে টেনিস বল দিয়ে শুরু তার প্র্যাকটিস। পরে শাকনাড়া হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক দিয়ে কলকাতায় চলে যায় সৌমেন। তারপর সেখান থেকে গেছে দিল্লি-মুম্বই আর সেখান থেকেই প্রফেশনাল ক্রিকেটার হওয়ার জার্নি শুরু তার। গত বছরেই রাজস্থান রয়েলসের সিলেক্টর পঙ্কজ সিং-এর নজরে আসে সৌমেন কিন্তু বলের স্পিড একটু কম বেশি থাকায় সুযোগ হয়নি খেলার। সৌমেন বলেন,এবছর আমি টপ এসেছি অল ওভার ইন্ডিয়ার আটটা সিটির মধ্যে থেকে।
‘‘১৪০ কিমি প্রতি ঘণ্টা গড়ে রয়েছে আমার বলের স্পিড আর সেখান থেকেই আমার সিলেকশন। সব ঠিক থাকলে আইপিলও খেলব কিন্তু ভবিষ্যতে আমার লক্ষ্য টিম ইন্ডিয়ার জার্সি।’’ সৌমেনের এই সাফল্যে আনন্দে আত্মহারা মা-বাবা, গোটা পরিবার সহ গ্রামবাসীরাও। আনন্দে চোখে জল মা-বাবার। তাঁরা বলেন, ‘‘বহু কষ্ট করে ছেলে এই জায়গায় পৌঁছে, চাই আগামী দিনে যাতে এভাবেই আরও এগিয়ে যেতে পারে।’’
বাশা গ্রাম থেকে রাজস্থান রয়েলস এর নেট বোলার এই দীর্ঘ সফরের প্রতিটি বাঁকে মিশে আছে সৌমেন ও তার মা-বাবার রক্ত জল করা পরিশ্রম। দারিদ্র্যকে বোল্ড আউট করে সৌমেন আজ জয়ের ক্রিজে। সৌমেনের এই জার্নি অনুপ্রেরণা যোগাবে প্রত্যন্ত গ্রামের বহু ক্রিকেট যুবকে।
Sayani Sarkar





