অনূর্ধ্ব ৬০ কেজি সিনিয়র লাইট কন্ট্যাক্ট বিভাগে রূপো এবং কিক লাইট ইভেন্টে ব্রোঞ্জ জিতে নজর কেড়েছেন শ্রেয়া। ভারত-সহ মোট ৮টি দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে লড়াই করে এই সাফল্য অর্জন করেন টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটির ছাত্রী শ্রেয়া। কিকবক্সিংয়ে এটিই তাঁর প্রথম আন্তর্জাতিক পদক।
তাইকোন্ডো ও ক্যারাটেতে আন্তর্জাতিক সাফল্যের পর এবার কিকবক্সিংয়েও নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিলেন তিনি। ২০১৬ সাল থেকে তাইকোন্ডোর অনুশীলন শুরু করেন শ্রেয়া এবং ২০২৩ সালে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতে বড় সাফল্য পান। ২০২৪ সাল থেকে কিকবক্সিং শুরু করে জেলা ও রাজ্যস্তরে সোনা জিতলেও, আগের দু’বার আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে খালি হাতে ফিরতে হয়েছিল তাঁকে। সেই ব্যর্থতাই তাঁর জেদ বাড়িয়ে দেয়, আর সেই জেদের ফল মিলল দিল্লির মাটিতে।
advertisement
শ্রেয়া বলেছেন, “দু’বার আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকে খালি হাতে ফিরতে হয়েছিল। তখন খুব খারাপ লেগেছিল, কিন্তু হাল ছাড়িনি। নিজের ভুলগুলো ঠিক করে আরও বেশি পরিশ্রম করেছি। এবার দেশের হয়ে পদক জিততে পেরে ভীষণ ভালো লাগছে।”
অন্য এক বক্তব্যে তিনি জানান, “আমার স্বপ্ন কিকবক্সিং সুপার লিগ (KSL)-এ অংশ নেওয়া এবং সেখানে জয়লাভ করা। শহরের নাম আরও উঁচুতে তুলে ধরতে চাই। ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলো ভালোবাসি। পড়াশোনার পাশাপাশি সবাইকে খেলাধুলায় যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানাই।”
তবে সাফল্যের পিছনে রয়েছে সংগ্রামের গল্পও। বাবা স্বপন বসাক একজন মধ্যবিত্ত ব্যবসায়ী এবং মা মাধবী বসাক গৃহবধূ। পরিবারের সীমিত আয়ের মধ্যেই কিকবক্সিংয়ের মতো ব্যয়বহুল খেলায় এগিয়ে চলেছেন শ্রেয়া। নিজের চেষ্টায় ও পরিবারের সহায়তায় খরচ সামাল দিলেও সরকারি সহযোগিতা না পাওয়ায় কিছুটা আক্ষেপ রয়েছে তাঁর। শ্রেয়ার কথায়, “এত পদক জেতার পরও যদি সরকারের সহযোগিতা পেতাম, তাহলে আরও বড় মঞ্চে দেশের হয়ে লড়াই করতে পারতাম।”
আরও পড়ুন- এবার কী থামবেন? ওডিআই কেরিয়ার নিয়ে সবথেকে বড় আপডেট দিলেন রোহিত শর্মা
দিল্লির মঞ্চে জোড়া পদক জিতে শিলিগুড়ির ক্রীড়াপ্রেমীদের মুখ উজ্জ্বল করেছেন শ্রেয়া বসাক। এখন লক্ষ্য আরও বড় আন্তর্জাতিক আসর—আর তার জন্য প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে জোরকদমে।





