অনেকের কাছে অনিকেতের এই সাফল্য রাতারাতি মনে হলেও, এর নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘ লড়াইয়ের গল্প। শিলিগুড়িতে বাবা-মা ও ভাইকে রেখে বর্তমানে উচ্চশিক্ষার জন্য কলকাতার বেহালায় একা থাকেন অনিকেত। স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পড়াশোনার প্রস্তুতি চালানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে সেন্ট্রাল এক্সাম দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এখন রেলওয়ের পরীক্ষার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন তিনি।
আরও পড়ুন: পুরুলিয়ার সেই গোপন আস্তানা, যেখানে রাত কাটিয়েছিলেন নেতাজি! জন্মজয়ন্তীতে প্রকাশ্যে অজানা ইতিহাস
advertisement
শিক্ষাজীবনের শুরুতে বাগডোগরার কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় (এয়ার ফোর্স)-এ পড়াশোনা করেন অনিকেত। পরে মালদহের সিস্টার নিবেদিতা স্কুলে হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যান। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বাবা বাপ্পা চক্রবর্তী একটি প্রাইভেট সংস্থার সঙ্গে যুক্ত, মা প্রেমা মোদক একজন স্কুল শিক্ষিকা এবং ভাই অর্ঘ্য চক্রবর্তী নবম শ্রেণীর ছাত্র। তাঁরা সকলেই শিলিগুড়ির নিজের বাড়িতেই থাকেন।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
কয়েক বছর আগে এই খেলায় অংশ নিতে গিয়ে অনিকেতকে হারের মুখ দেখতে হয়েছিল। সেই সময় কটু কথা, হতাশা—সবই সহ্য করতে হয়েছে তাঁকে। কিন্তু থেমে যাননি। গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় দু’হাজার প্রতিযোগীর মধ্যে নিজেকে প্রমাণ করে ভুবনেশ্বরে আবার নির্বাচিত হন তিনি। জানুয়ারি মাসে আসে চূড়ান্ত নির্বাচনের খবর। এরপর ২৫ জানুয়ারি উত্তরপ্রদেশে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় ১০০ মিটারে ৪২ জন প্রতিযোগীর মধ্যে দু’টি হিট খেলে ফাইনালে পৌঁছে প্রথম স্থান অধিকার করেন অনিকেত।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, অনিকেত কখনও প্রফেশনাল ট্রেনিং নেননি। হোস্টেলে থাকাকালীন ক্রিকেট খেলতেই বেশি ভালবাসতেন তিনি। সেখানেই হোস্টেল কোচের কাছ থেকে সামান্য দৌড়ের কৌশল শিখেছিলেন। সেই সামান্য শেখা আর অদম্য ইচ্ছাশক্তিই আজ তাঁকে জাতীয় মঞ্চে পৌঁছে দিয়েছে। বর্তমানে স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট পড়াশোনা করে ক্রীড়াক্ষেত্রে আরও অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
নিজের সাফল্য নিয়ে অনিকেত জানিয়েছেন, এই জয়লাভে তিনি অত্যন্ত খুশি ও গর্বিত। তাঁর কথায়, “এই পদক শুধু আমার নয়, আমার পরিবার, কোচ আর শিলিগুড়ির সকল মানুষের। ভবিষ্যতে আরও ভাল কিছু করার ইচ্ছা আছে।” অনিকেতের এই সাফল্য আজ শুধু একটি পদক নয়—এ এক অনুপ্রেরণার গল্প, যা বহু তরুণকে স্বপ্ন দেখতে সাহস জোগাবে।





