ছবিলা দেবীর মতে, “যারা থমকে ছিল,তারা এগিয়ে যাবে।ট্রেনে উঠে পড়লেই চলবে নিজের গতিতে। আর স্বপ্নপুরী নামের কারণ হল , যারা আসবে তাঁদের সবার স্বপ্ন পূরণ হবে। “সেই স্বপ্নপূরী এক্সপ্রেসেআজ অসহায় মা’এরসংখ্যা ২৫ জন। যদিও এখন তাঁদের আর অসহায় বলা যায়না। কারণ, মায়েদের মতে , “এখন তাদের জন্য সর্বদা সহায় তাঁদের মা ছবিলা। “এমনকি বৃদ্ধাশ্রমের মায়েরা এখন স্বপ্নপুরীকে ভালোবেসে বলেন স্বর্গপুরী।
advertisement
আরও পড়ুন : খাবারে বিষ মিশিয়ে পাঁচ কুকুর ছানাকে হত্যার অভিযোগ, ময়না তদন্তের দাবি পশুপ্রেমীদের
২৫ জন মাকে নিয়ে ছবিলার সেই স্বপ্নপুরী এক্সপ্রেস চলছিল দ্রুতগতিতেই। কিন্তু হঠাৎই দিন কয়েক আগে বৃদ্ধাশ্রম এর একজন আবাসিক মাথা ঘুরে পড়ে যান। আর তারপরই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য বেশ কয়েকটি টোটো ডাকা হলেও সেই ডাকে সাড়া দেয়নি কোনওটোটোওয়ালা। স্বাভাবিকভাবেই দেরিতে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কারণে কিছুটা ব্যাহত হয় তার চিকিৎসা। আর এরপরেই বৃদ্ধাশ্রমের মায়েদের জন্য একটি টোটো কেনার সিদ্ধান্ত নেন ছবিলা খাতুন। কিন্তু কিনব বললেই তো আর হবে না, কিনতে গেলে লক্ষাধিক টাকার প্রয়োজন। এদিকে বৃদ্ধাশ্রম তৈরি করে জমানো পুঁজিও সব প্রায় শেষ।তাই কার্যত বাধ্য হয়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় টোটো কেনার কথা জানিয়ে আর্থিক সাহায্যের জন্য পোস্ট করেন। কিন্তু সেই পোস্ট অনেকেই দেখে এড়িয়ে চলে গেছেন কেউ সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসেননি।
কিন্তু কথায় আছে ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়। আর হলও সেটি। ছবিলা দেবীর কাছে টোটো কেনার কথা শুনে আর্থিক সাহায্য করতে এগিয়ে এলেন এলাকারই একজন কাঠমিস্ত্রি নূর আলম মিয়া। নিজের মেয়েদের বিয়ের জন্য জমানো পুঁজি ভেঙেই কিনে দেন লাখ টাকার টোটো। কিন্তু টোটো কেনার পরেও যে নিশ্চিন্ত হতে পেরেছেন ছবিলা দেবী এমনটা নয়। কারণ, হঠাৎ প্রয়োজন হলে টোটো নিয়ে যাবে কে! আবারওকি তাহলে কোনও জরুরী পরিস্থিতিতে পরনির্ভরশীল হতে হবে ? এসব ভাবতে ভাবতেই হঠাৎই তার মাথায় আসে, নিজে টোটো চালানো শিখলে কেমন হয়।
আরও খবর পড়তে ফলো করুন
https://whatsapp.com/channel/0029VaA776LIN9is56YiLj3F
যেমন ভাবা তেমন কাজ। তাই কারোর ওপর ভরসা না করে এখন নিজেই টোটো চালানো শিখছেন ছবিলা খাতুন। আর শিক্ষকের ভূমিকায় রয়েছেন কাঠমিস্ত্রি নূর আলম মিঞা।
সৌভিক রায়





