জন্মদিনের সন্ধ্যায় নিজের বাসভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে মরণোত্তর দেহদানের অঙ্গীকারপত্রে স্বাক্ষর করেন আলোক কুমার পাল। এই মহতী উদ্যোগে তাঁকে সহযোগিতা করে সামাজিক সংগঠন মেদিনীপুর কুইজ কেন্দ্র সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি। পরিবারের সকলের উপস্থিতিতেই সম্পন্ন হয় এই গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম। আলোকবাবুর স্ত্রী শর্মিষ্ঠা পাল, পুত্র অদ্রীজ পাল, ভাই শান্তি রঞ্জন পাল এবং ভাতৃবধূ শম্পা আঢ্য পাল এই অঙ্গীকারের সাক্ষী হিসেবে অঙ্গীকারপত্রে স্বাক্ষর করেন। পরিবারের সদস্যদের পূর্ণ সমর্থন ও সম্মতির মধ্য দিয়ে এই সিদ্ধান্ত আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফিজিওথেরাপিস্ট আলোক কুমার পাল বলেন, মৃত্যুর পর দেহ পুড়িয়ে ফেলা নয়, দান হবে চিকিৎসা ক্ষেত্রে গবেষণার জন্য। নশ্বর দেহকে পুড়িয়ে ফেলা বা কবরস্থ করা নয়, এভাবে এগিয়ে গেলে উন্নতি হবে বিজ্ঞান গবেষণায়।
advertisement
আরও পড়ুন: কনকনে ঠান্ডায় চলন্ত ট্রেনে মর্মান্তিক ঘটনা! মেদিনীপুরে উদ্ধার যাত্রীর নিথর দেহ
পশ্চিম মেদিনীপুরের আলোক কুমার পালের এই উদ্যোগ চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। জীবনের শেষ পর্বেও সমাজ ও মানবকল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করার এই মানসিকতা অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। যেখানে মৃত্যুর পর পুড়িয়ে দেওয়া কিংবা কবরস্থ করা একটি সামাজিক রীতি, সেখানে নিজের দেহ দান সত্যি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ সমাজের কাছে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
তাঁর এই দৃষ্টান্ত সমাজে দেহদান সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেবে বলেই আশা। তবে সংগঠনের তরফে সকলের কাছে আবেদন জানান হয়েছে, চিকিৎসা ক্ষেত্রে উন্নতি এবং মৃত্যুর পর অন্যকে অঙ্গদানের মধ্য দিয়ে সুস্থ করে তোলার। তবে নিজের জীবদ্দশায় এমন সাহসী সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সকলে।






