ঝালমুড়ি বিক্রেতা হরিহরবাবুর ভরসায় কয়েক বছর আগেই জাতীয় সড়কের উড়ালপুলের নিচে বহু পাখি বাসা বেঁধেছে। দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে এই নজিরবিহীন দৃশ্য দেখা যায়। দুর্গাপুরের ইন্দো-আমেরিকান মোড়ে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের উড়ালপুলের নিচে রয়েছে শতাধিক পায়রা। ওই উড়ালপুলের আনাচেকানাচে কয়েক বছর আগে ওই পায়রাগুলি বাসা বাঁধে। সৌজন্যে হরিহরবাবুর আস্থা ও ভালোবাসা।
advertisement
প্রায় তিন বছর আগে বছর ৫০-এর হরিহরবাবু অর্থ উপার্জনের জন্য ওই উড়ালপুলের নীচে ঝালমুড়ি বিক্রি করতে শুরু করেন। একটি ঠেলাগাড়িতে ঝালমুড়ি ও ছাতুর সরবত সহ ভাজাভুজি বিক্রি করেন তিনি। তাঁর বাড়ি দুর্গাপুরের এমএএমসি টাউনশিপে। তিনি একসময় সংসার চালাতে ভিনরাজ্যে কাজ করতেন। করোনাকালে লকডাউনে ভিনরাজ্যের কাজ হারান। সেই সময় দুর্গাপুরে আসেন। রোজগারের জন্য ঠেলাগাড়ি করে ঝালমুড়ি বিক্রি শুরু করেন। সেই সময় তাঁর ঝালমুড়ির বিক্রি-বাট্টা তেমন ছিল না। দিনের শেষে বেঁচে থাকা ঝালমুড়ি ও ঝালমুড়ি বানানোর কাঁচামাল, ভেজা ছোলা পাখিদের খেতে দিতেন।
সেইসময় অনান্য পাখির সঙ্গে কয়েকটি পায়রা ওই ঝালমুড়ি ও ছোলা খেতে আসত। ব্যবসা মন্দ হলেও পায়রা ও পাখিদের প্রেমে পড়ে যান হরিহরবাবু। দিনের পর দিন পায়রার সংখ্যাও বাড়তে থাকে এবং হরিহরবাবুর ব্যবসারও শ্রীবৃদ্ধি ঘটতে থাকে। পায়রার প্রতি তাঁর এই প্রেম দেখে দোকানে আসা ক্রেতারাও তাঁর থেকে ছোলা, মুড়ি কিনে পায়রাদের খাওয়ান। ধীরে ধীরে ওই উড়ালপুলের তলায় কংক্রিটের আনাচেকানাচে পায়রাগুলি বাসা বাঁধতে শুরু করে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
বিগত কয়েক বছরে কয়েকটি পায়রা বংশবিস্তার করে বর্তমানে শতাধিক পায়রা হয়েছে। তাই হরিহরবাবু প্রতিদিন ঝালমুড়ির পাশাপাশি ওই পাখিগুলিকে গম এবং চালও দেন। এমন নজিরবিহীন দৃশ্য যেন মনে করিয়ে দেয় স্বামী বিবেকানন্দের সেই উক্তি, “জীবে প্রেম করে যেইজন, সেইজন সেবিছে ঈশ্বর”।





