অন্যদিকে, বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণ করছেন মহিলা পুরোহিত। কন্যা সম্প্রদান করছেন ক্লাবের তিন মহিলা সদস্য। সকলেই মিলে দিচ্ছেন উলুধ্বনি। অভিনব এক বিয়ের আয়োজনে সাক্ষী রইল হাজার হাজার মানুষ। সম্পূর্ণ রীতি রেওয়াজ মেনে শুভদৃষ্টি, মালাবদল, সিঁদুর দান, খই পোড়ার মধ্য দিয়ে বিয়ের আয়োজন হল পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদায়। সরস্বতী পুজোর সাংস্কৃতিক মঞ্চই বিয়ের ছাদনাতলা। সম্পূর্ণ মহিলা সদস্যদের দ্বারা পরিচালিত এই বিয়ের অনুষ্ঠানে পুরোহিত ছিল মহিলারাই।
advertisement
সামনেই চলছে ব্যান্ড পার্টি, বাজনার তালে তালে আনন্দে নাচছে বর যাত্রী, কনে যাত্রীরা।সারি দিয়ে সাজানো টোটোতে চেপে এসেছেন বর ও কনে। ১৪ তম বর্ষে ১২ জোড়া বর কনের বিয়ে দিল বেলদা ক্লাব। প্রতি বছর শিক্ষা সামগ্রী প্রদান, ট্রাই সাইকেল প্রদানের পাশাপাশি গণবিবাহের আয়োজন করে পশ্চিম মেদিনীপুরের এই ক্লাব। সরস্বতী পুজো উপলক্ষে ছিল গণবিবাহ কর্মসূচি।
বিভিন্ন বাছাই পর্বের পর জেলার পিছিয়ে পড়া এলাকার গরিব ছেলেমেয়েদের বিয়ের আয়োজন করে এই ক্লাবটি। প্রতি বছরের মতো এ বছর ছিল ১২ জোড়া বর কনের বিয়ের আয়োজন। কারোর বাড়ি এই মেদিনীপুর জেলাতে, কেউ এসেছে পার্শ্ববর্তী ঝাড়গ্রাম থেকেও, কারও বাড়ি আবার ২৪ পরগনার নৈহাটিতে। বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণ, শুভ দৃষ্টি সহ সকল রীতি নিয়ম মেনে আয়োজন করা হয় গণবিবাহের। শুধু তাই নয়, সরকারি মতে বিয়ে এবং বিয়ের যাবতীয় আসবাবপত্র দেওয়া হয় নব দম্পতিদের। ছিল বৌভাতেরও আয়োজন।
এদিনের এই বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগড় বিধানসভার বিধায়ক সূর্যকান্ত অট্ট, বেলদা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান, সহ একাধিক বিশিষ্টজনেরা।প্রসঙ্গত ধুমধাম করে মহা আয়োজনে, বিয়ের আয়োজন করতে পারেন না প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকার গরিব পরিবারগুলো। তবে সরকারি সমস্ত নিয়ম মেনে প্রতিবছর গণবিবাহের আয়োজন করে বেলদা ক্লাবটি। এবছর বারো জোড়া বর কনের বিয়ে দিল তারা।
আরও পড়ুন- সপ্তাহান্তের ছোট্ট অবসরে ইতিহাস ও প্রকৃতিতে ডুব দিতে আসুন কুরুমবেড়া দুর্গে
এই বিয়েতে পৌরহিত্য করেন বেশ কয়েকজন মহিলা পুরোহিত। শুধু তাই নয়, কন্যা সম্প্রদান করেন ক্লাবের মহিলা সদস্যরা। তাঁদের মা হয়ে এমন আয়োজন করতে পেরে খুশি তাঁরাও। বেশ কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতিতে সকলকে সাক্ষী রেখে বিয়ে হয় তাঁদের। দুহাত ভরে আশীর্বাদ করেন সকলে। সমস্ত ধরনের সাহায্যের আশ্বাস ক্লাবের। সরস্বতী পুজো উপলক্ষে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বেলদা ক্লাবের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সকলে।





