সেই ফল জড়ো করে তার ভেতরের একমাত্র বীজটি সংগ্রহ করে বিক্রি এখন এই কয়েকদিন জঙ্গল লাগোয়া গ্রামের মানুষের আয়ের অন্যতম উৎস। বাইরে থেকে পাইকার এসে নগদ মূল্যে গ্রামবাসীদের থেকে ওজনদরে কিনে নিয়ে যাচ্ছে শালের বীজ। প্রতি কেজি শাল বীজের বর্তমান ক্রয়মূল্য ১৮ থেকে ২০ টাকা। এই বীজ সংগ্রহের জন্য প্রথমে জঙ্গলে ঝাঁট দিয়ে শাল ফল জড়ো করা হয়। তারপর পরিষ্কার করে রোদে শুকিয়ে নেওয়া হয়। পরিষ্কার শুকনো ফলগুলো এবার পাকা রাস্তার উপর ঘষে কুলোতে করে পাছড়ে নিলেই ফলের শুকনো খোসা আলাদা হয়ে বেরিয়ে আসে বীজ।
advertisement
আরও পড়ুন: পাহাড়ের কোলে ছবির মতো সুন্দর বাঁকুড়ার ‘এই’ গ্রামের ইতিহাস চমকপ্রদ! সপ্তাহান্তে ঘুরে আসুন
চলতি সময়ে জঙ্গলমহলের রানিবাঁধ ব্লকের বেঠুয়ালা, কুল্যাম সহ বিভিন্ন গ্রামে গেলে দেখা যাবে গ্রামের মহিলারা শাল বীজের খোসা ছাড়াতে ব্যস্ত। এবার সেই বীজ পাইকার ও ফড়েদের হাতবদল হয়ে চলে যায় রাজ্যের বিভিন্ন শহর সহ অন্যান্য রাজ্যেও। এই বীজ পেষাই করে পাওয়া যায় বহুমূল্য তেল এবং মাখন। প্রাপ্ত তেল ও মাখন সাবান শিল্পে, ভোজ্য বনস্পতি শিল্পে, প্রসাধনী শিল্পে, বিভিন্ন ঔষধ তৈরিতে ব্যাপক ব্যবহৃত হয়।
আরও পড়ুন: কেন্দ্র, রাজ্য, মন বসেনি কোন চাকরিতেই! দশ দশটি সরকারি চাকরি ছেড়ে এখন চাষি বাঁকুড়ার যুবক, কেন জানেন
বহু আগে পাইকারেরা এক কেজি নুনের বদলে দুই কেজি বীজ বা আরও নিম্ন দরে এই বীজ সংগ্রহ করত। এখন পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে, এলাকায় বীজ ক্রয় করার জন্য পাইকারের সংখ্যা বেড়েছে। তাই দামও কিছুটা বেড়েছে। তবে প্রান্তিক এখানকার মানুষজন সেসব নিয়ে বিশেষ ভাবেন বলে মনে হয়না, কায়িক শ্রমে শাল বীজ সংগ্রহ করার পর বিক্রি করে সামান্য অর্থ পেয়েই তারা খুশি। এখনও গ্রাম বাংলার মানুষের একটি বড় অংশের আয়ের উৎস জঙ্গল। তাই এলাকার মানুষের দাবি প্রশাসনের তরফে আরও বেশি করে জঙ্গল সহ শাল গাছের পরিসর বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার।
নীলাঞ্জন ব্যানার্জী





